ঢাকারবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

কিডনি রোগীদের জন্য সুখবর! ডায়ালাইসিস ছাড়াই কিডনি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ । ২৩ জন

কিডনি রোগ বিশ্বজুড়ে একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রোগটি সাধারণভাবে ধরা পড়ার পর ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে রোগীর একমাত্র ভরসা থাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস অথবা ব্যয়বহুল ও জটিল কিডনি প্রতিস্থাপন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবার এমন এক নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা, যা ভবিষ্যতে এই নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এর গবেষকরা কিডনি রোগ নিরাময়ে এএভি (AAV) জিন থেরাপি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু করেছেন। এই অত্যাধুনিক পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো শরীরের ভেতরে থাকা ত্রুটিপূর্ণ বা বিকল জিনকে চিহ্নিত করে সেটিকে সুস্থ জিন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা।

কীভাবে কাজ করবে এই আধুনিক জিন থেরাপি

গবেষকদের মতে, এই থেরাপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিনব দিক হলো ভাইরাসকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করা। এখানে সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাস—যা মূলত সর্দি-কাশির জন্য দায়ী—তাকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়।

প্রথম ধাপে ভাইরাসটির ক্ষতিকর অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করে সেটিকে নিরাপদ বা নির্বিষ করা হয়। এরপর সেই পরিবর্তিত ভাইরাসের ভেতরে একটি সুস্থ জিন প্রবেশ করানো হয়, যা কিডনির কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এরপর ইনজেকশনের মাধ্যমে এই জিন-বাহী ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করানো হলে এটি রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছে যায়। সেখানে পৌঁছে ভাইরাসটি সুস্থ জিনকে নির্দিষ্ট কোষে প্রবেশ করায় এবং ত্রুটিপূর্ণ জিনকে প্রতিস্থাপন করে দেয়। ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কিডনি কোষ পুনরায় কার্যক্ষমতা ফিরে পেতে শুরু করে।

গবেষকদের আশা ও সম্ভাবনা

গবেষকদের মতে, কিডনি রোগের মূল কারণ অনেক ক্ষেত্রেই জিনগত ত্রুটি বা কোষীয় পর্যায়ের সমস্যা। তাই যদি সরাসরি সেই মূল কারণকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা দেওয়া যায়, তবে রোগ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় সম্ভব হতে পারে। এই পদ্ধতি সফল হলে কেবল উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং রোগের মূল উৎস থেকেই চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে রোগীদের দীর্ঘদিনের ডায়ালাইসিস নির্ভরতা অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনও কমে আসতে পারে।

বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে এই জিন থেরাপি সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। কিডনির গঠন অত্যন্ত জটিল হওয়ায় সঠিক স্থানে নির্ভুলভাবে সুস্থ জিন পৌঁছে দেওয়াই গবেষকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কার্যকারিতা নিয়েও চলছে বিস্তর গবেষণা।

তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই থেরাপি সফলভাবে প্রয়োগযোগ্য হতে পারে। সফল হলে এটি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ কিডনি রোগীর জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু কিডনি চিকিৎসায় নয়, পুরো জিন-ভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।