
কিডনি এবং পিত্তথলির পাথর—শুনতে এক হলেও, এরা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেকেই এদের মধ্যে পার্থক্য করতে না পেরে ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার শিকার হন। অথচ এই দুটি অবস্থার কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা একেবারেই ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনিতে পাথর সাধারণত খনিজ উপাদান যেমন ক্যালসিয়াম বা ইউরিক অ্যাসিড জমে তৈরি হয়, যা ডিহাইড্রেশন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা বংশগত কারণে হতে পারে। পাথরটি মূত্রনালীর মাধ্যমে বের হতে গেলে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
অন্যদিকে, পিত্তথলির পাথর তৈরি হয় কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিন থেকে। এটি প্রায়ই চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর উপরের পেটের ডান পাশে ব্যথা, পেট ফাঁপা বা বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিডনি বা পিত্তথলির পাথর চিহ্নিত করার জন্য কিছু প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা না করাই শ্রেয়। নিচে এমনই ৫টি সতর্কতা সংকেত তুলে ধরা হলো—
১. পেটে বা পিঠে নিস্তেজ ব্যথা: কিডনির ক্ষেত্রে পিঠের নিচে বা পাশে ব্যথা হয়। পিত্তথলির ক্ষেত্রে উপরের ডান পেটে অস্বস্তি দেখা যায়, যা খাবারের পর বাড়ে।
২. বমি বা অস্বস্তি বোধ: পিত্তথলির পাথর খাওয়ার পর বমি বমি ভাব ও গ্যাস তৈরি করে। কিডনির পাথর জ্বালাপোড়া বা সংক্রমণ ঘটালে বমি হতে পারে।
৩. প্রস্রাবের পরিবর্তন: কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাব ঘন, দুর্গন্ধযুক্ত বা লালচে হতে পারে। পিত্তথলির পাথরের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রস্রাবে তেমন পরিবর্তন হয় না।
৪. ঘন ঘন বা বেদনাদায়ক প্রস্রাব: কিডনির পাথর মূত্রাশয়ের কাছে থাকলে বারবার প্রস্রাবের তাগিদ হয়। পিত্তথলির পাথর প্রস্রাবে তেমন প্রভাব ফেলে না।
৫. হালকা জন্ডিস: পিত্তথলির পাথর পিত্তনালী ব্লক করলে চোখ বা ত্বক হালকা হলুদ হতে পারে। কিডনির পাথরে এ লক্ষণ সাধারণত থাকে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ উপরোক্ত উপসর্গগুলো লক্ষ্য করেন, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাই পারে জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে।