
করোনা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া—একসঙ্গে তিন ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে এসব রোগের লক্ষণ একে অপরের সঙ্গে মিল থাকায় বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে একমাত্র করণীয়।
সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাসে একদিনেই ৫ জনের মৃত্যুর খবর জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, এখনও এটি মহামারি পরিস্থিতি নেয়নি। করোনায় মৃত্যুবরণ করা অধিকাংশ রোগী আগে থেকেই হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা বা অন্যান্য গুরুতর রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কোভিড হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আইসিইউ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে কয়েক হাজারে। এছাড়া চিকুনগুনিয়াও নতুন করে শনাক্ত হচ্ছে, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তিনটি রোগেই সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, গাঁটে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে। এ কারণে রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে করোনা ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শরীরে জ্বর বা ব্যথা হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করান, বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন, মশা নিধনে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ নিন, মাস্ক ব্যবহার ও হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন, রোগ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে আলাদা রাখুন
সরকারি পর্যায়ে প্রচারণা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে একসঙ্গে তিন ভাইরাসের এ চাপ সামলানো যায় বলেও মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।