
কক্সবাজারে টেকসই কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা রূপান্তর এবং জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) একটি সমন্বয় ও শিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) কক্সবাজারে আয়োজিত এ কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং এনজিও ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইইউ-অর্থায়িত প্রো-রেসিলিয়েন্স অ্যাকশন (প্রোঅ্যাক্ট) প্রকল্পের আওতায় ‘কক্সবাজারে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা রূপান্তরের মাধ্যমে স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণ’ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং এর উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো জাতীয় ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার (এসি) মডেলের সাফল্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু-সহনশীল মাছ শুকানোর প্রযুক্তি এবং অ্যাগ্রিগেশন সেন্টারের মাধ্যমে দেওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার কার্যকারিতা নিয়ে দুটি কারিগরি মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রোঅ্যাক্ট প্রকল্প প্রমাণ করেছে যে অ্যাগ্রিগেশন সেন্টারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরামর্শ সেবা, উন্নতমানের উপকরণ এবং বাজার সংযোগ কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার মধ্যে অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার মডেলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং এর পরিধি বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। যথাযথ নীতিগত সহায়তা, সম্পদ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও এসব সেবা টেকসই করা এবং এর সুফল দেশের কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় এফএও বাস্তবায়িত প্রোঅ্যাক্ট প্রকল্পটি কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের লক্ষ্য জলবায়ু-সহনশীল ফসল উৎপাদন, মৎস্য চাষ, টেকসই শুঁটকি উৎপাদন, কৃষি মূল্য শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ, বাজার সুবিধা ও আর্থিক সাক্ষরতার মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা উন্নত করা, জীবিকার সুযোগ বাড়ানো এবং কৃষক পরিবারের সহনশীলতা জোরদার করা।
প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো এফএও-সমর্থিত অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার। এসব কেন্দ্র ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পরিবারের জন্য জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, ডিজিটাল সম্প্রসারণ পরামর্শ, ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা এবং বাজার সংযোগকে একত্রিত করে। কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এসব অ্যাগ্রিগেশন সেন্টারে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি নেতৃত্ব দিচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সবজি উৎপাদনে ১০ হাজার পরিবারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে এফএওর উপ-প্রতিনিধি দিয়া সানু বলেন, কক্সবাজারে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করতে পেরে এফএও গর্বিত।
তিনি বলেন, অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার মডেল দেখিয়েছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পরিবারের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, ডিজিটাল পরামর্শ সেবা ও বাজার সংযোগকে একত্রিত করা গেলে বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
দিয়া সানু আরও বলেন, প্রোঅ্যাক্ট প্রকল্প পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজারে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা যাতে কক্সবাজারের বাইরেও দীর্ঘস্থায়ী সুফলে রূপান্তরিত হয়, সে লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে কাজ করে যাবে এফএও।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা ও উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি ও মাঠপর্যায়ের অংশীজনরা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এসব কৃষি পদ্ধতি টেকসই করা এবং অন্যান্য এলাকায় এর সফল উদ্যোগগুলো অনুসরণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রোঅ্যাক্ট-‘কক্সবাজারে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা রূপান্তরের মাধ্যমে স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণ’-ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এফএও বাংলাদেশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অংশীদারত্বে বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি জলবায়ু-সহনশীল উৎপাদন, টেকসই মূল্য শৃঙ্খল এবং উন্নত বাজার ও আর্থিক সুযোগের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের কৃষক পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা ও সহনশীলতা জোরদারে কাজ করছে।