
ইরানের বিমান চলাচল ও বিমানবন্দরসেবা বন্ধ করে দেওয়া হলে গোটা অঞ্চলের কোনো দেশই এ ধরনের সুবিধা পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মাদ মোখবের।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোখবের বলেন, ‘এই অঞ্চলে ফ্লাইট সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, অথবা কারও জন্যই থাকবে না।’ ইরানকে বিমান চলাচল ও বিমানবন্দরসেবা থেকে বঞ্চিত করা হলে অন্য কোনো দেশকেও এসব সুবিধা ভোগ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
মোখবের আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক নীতি’ বাস্তবায়নে যারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে অবস্থান নিচ্ছে, তা ইরানের জনগণের স্মৃতিতে থেকে যাবে। তবে ইরান কীভাবে অন্য দেশের বিমানবন্দর কার্যক্রমে বাধা দেবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানাননি।
ইরানের বিমান চলাচল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিমানবন্দর ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পর ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিমানবন্দরের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরাকের নাজাফ, এরবিল ও সুলাইমানিয়া বিমানবন্দর ইরানের সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এর আগে বাগদাদ বিমানবন্দরেও ইরানি ফ্লাইট বন্ধ করা হয়। ফলে ইরান ও ইরাকের মধ্যে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সরাসরি বিমান যোগাযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করেছে। আজারবাইজানেও ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর চলাচলে বিধিনিষেধ এসেছে। জর্জিয়াতেও ইরানি ফ্লাইট চলাচল সীমিত হয়েছে।
ইরানের এমন হুঁশিয়ারির আগে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সহযোগিতা করলে তাদের বিমানবন্দর পরিচালনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তবে মোখবের বা রেজাই—কেউই ইরান কীভাবে অন্য দেশের বিমানবন্দর কার্যক্রমে বাধা দেবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা জানাননি। ফলে তাদের বক্তব্যের তাৎক্ষণিক বাস্তব প্রভাব কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ার মধ্যেই এ হুঁশিয়ারি এলো। বিভিন্ন দেশ ও বিমানবন্দর ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করায় দেশটির আন্তর্জাতিক আকাশপথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।