
ইংল্যান্ডে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৬০ লাখ বাড়ির বাসিন্দাদের আগামী তিন মাসের সম্ভাব্য বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি (EA)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এসব বাড়ির মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দাই জানেন না যে তাদের বাড়িঘর বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থাৎ ২০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি এ সতর্কবার্তা দেয়। সংস্থাটি জানায়, শীতের শুরুতে যুক্তরাজ্যে বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির বন্যা ও উপকূলীয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরিচালক ক্যারোলিন ডগলাস বলেন, ইংল্যান্ডে প্রায় ৬০ লাখ বাড়ি বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের একটি বড় অংশ নিজেদের এই ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন।
তিনি বলেন, ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মনে করেন না যে তারা কোনো ধরনের বন্যার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ কারণে বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়িঘরের ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্যারোলিন ডগলাস বাসিন্দাদের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের বাড়ি বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে কি না তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বন্যার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিসের (Met Office) তিন মাসের পূর্বাভাসেও বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ উইল ল্যাং বলেন, সামগ্রিকভাবে আগামী তিন মাসে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিবহুল এবং ঝড়ো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বা মৃদু থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আগামী মাসগুলোর আবহাওয়ায় ‘এল নিনো’রও কিছুটা প্রভাব থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। উইল ল্যাং বলেন, এল নিনো যুক্তরাজ্যে বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এটি যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী একাধিক কারণের মধ্যে একটি। এর প্রভাবকে তিনি তুলনামূলকভাবে ‘সূক্ষ্ম’ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, এই পরিস্থিতির কারণে বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে শুধু এল নিনোকেই যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।
গত বছরও যুক্তরাজ্যজুড়ে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবারও শীতের শুরুতে বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে আগাম সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। বিশেষ করে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের নিজেদের ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে একই সময়ে যুক্তরাজ্যের বড় একটি অংশে খরা পরিস্থিতিও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশটির জলাধারগুলোর পানির স্তর এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। ফলে জলাধারগুলোর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে শীতকালে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থাৎ, আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যের একদিকে বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, অন্যদিকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় খরা পরিস্থিতিও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি।