ঢাকাশনিবার , ২৭ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

আমের মিষ্টি রহস্য: রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৬ অগাস্ট ২০২৫, ১১:৫২ সকাল

Link Copied!

ভোরের আলোয় সকালের নাস্তার টেবিলে রাখা একটি ছোটো সাপেদা আম। চারপাশে তাজা রুটির গন্ধ, কফির ধোঁয়া, আর একটি সতেজ, রসালো আমের সোনালি রঙ যেন আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ে। হয়তো সাধারণ ফল বলেই মনে হতে পারে, কিন্তু সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, এই ফলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে টাইপ–২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ ক্ষমতা। ভারতের ফোর্টিস সি-ডক হাসপাতাল ও ন্যাশনাল ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, অ্যান্ড কোলেস্টেরল ফাউন্ডেশন (এন-ডক) যৌথভাবে পরিচালিত এক আট সপ্তাহের নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রাতঃরাশে প্রায় ২৫০ গ্রাম (একটি ছোটো আম) সাপেদা বা দশেরি জাতের আম খাওয়া অংশগ্রহণকারীরা শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেই সক্ষম হননি, বরং ইনসুলিন সেনসিটিভিটিও উন্নত করেছেন।

গবেষণার নকশা ছিল সরল কিন্তু কার্যকর। দুই দলে ভাগ করা প্রাপ্তবয়স্ক টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের একদলকে প্রতিদিন একটি ছোটো আম দেওয়া হয়, অন্য দল সমপরিমাণ সাদা পাউরুটি খেত। আট সপ্তাহ পর ফলাফলে দেখা যায়, আম খাওয়া অংশগ্রহণকারীদের ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা বেড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সূচক HbA1c-এর মাত্রাও হ্রাস পেয়েছে। তুলনায় পাউরুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৭০–৭৫ হলেও আমের ছিল কম, যা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

এ ফলের স্বাস্থ্যগুণ শুধু রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ নয়। আমে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (বিশেষত ম্যাঙ্গিফেরিন), ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ হজমশক্তি উন্নত করতে, কোলেস্টেরল কমাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রাকৃতিক এনজাইম হজম ও পুষ্টি শোষণে সহায়ক হয়, যা অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে। এমনকি নিয়মিত আম খাওয়ার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌যন্ত্রের সুরক্ষায়ও উপকার মেলে বলে গবেষকরা মনে করেন।

তবে, এই ফল কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের “প্রতিকার” নয়—বরং এটি একটি সহায়ক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। যেহেতু আমে প্রাকৃতিক চিনি থাকে এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি পর্যায়ের, তাই অতিরিক্ত বা অসংযত সেবনে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এজন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—আম খেতে হবে মিতব্যয়ীভাবে, অর্ধেক কাপ বা তার কম পরিমাণে শুরু করা ভালো, সম্ভব হলে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (যেমন দই বা বাদাম) বা স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া উচিত। এতে চিনি শোষণের হার ধীর হবে এবং শক্তি দীর্ঘসময় বজায় থাকবে।

এছাড়া খালি পেটে আম না খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা, কারণ তখন রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটতে পারে। শুকনো বা প্রক্রিয়াজাত আম এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলোতে অতিরিক্ত চিনি ও সংরক্ষক থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাজা, মৌসুমি আম সর্বোত্তম বিকল্প।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী, সংযমের সঙ্গে খাদ্যতালিকায় তাজা আম অন্তর্ভুক্ত করলে তা শুধু রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেই নয়, বরং সামগ্রিক বিপাক ক্রিয়া, হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা ও ত্বক-চুলের যত্নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত নিয়মিত রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা।

অতএব, গ্রীষ্মের এই সোনালি ফল শুধুই রসনায় আনন্দ যোগ করে না—সঠিক পরিমাণে, সঠিকভাবে খেলে এটি হতে পারে সুস্থ জীবনের এক মিষ্টি সঙ্গী।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

অপোর ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম শুরু, আবেদন চলছে

ইবোলা ঝুঁকিতে তিন দেশের ভ্রমণ স্থগিত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০

হেলথ প্রমোশনে যৌথ উদ্যোগে কুয়েট-ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে প্রাণিসম্পদ খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

দুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস

মেট্রোরেলের নতুন সময়সূচি, জেনে নিন কোন দিন কখন চলবে ট্রেন

PROGGA, ATMA Call for Tobacco Tax Structure Reform in Final Budget

চূড়ান্ত বাজেটে তামাক করকাঠামো সংস্কারের আহ্বান

টেকসই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সংকটাপন্ন এলাকা

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা

Upay-foodpanda partnership to simplify transactions