
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা এএমআর (AMR) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। রোগজীবাণু যখন অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, তখন চিকিৎসায় এসব ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এএমআরকে মূলত মানবস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও, পরিবেশও এর বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আফ্রিকায় এএমআরের পরিবেশগত দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানুষের বর্জ্য, হাসপাতাল ও চিকিৎসা বর্জ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং কৃষি ও পশুপালনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহারের মাধ্যমে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু ও রেজিস্ট্যান্স জিন পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনকারী কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদী বা জলাশয়ে পড়লে সেখানে থাকা ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের সংস্পর্শে আসতে পারে। এতে পরিবেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধী জীবাণু ও রেজিস্ট্যান্স জিনের বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।
হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করলেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব বর্জ্যের মাধ্যমে ওষুধের অবশিষ্টাংশ, রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু এবং রেজিস্ট্যান্স জিন মাটি ও পানিতে পৌঁছাতে পারে।
কৃষি ও পশুপালনও এএমআর বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পশুপাখির চিকিৎসা এবং উৎপাদনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহার এবং কৃষিতে এর প্রয়োগের ফলে প্রাণীর মলমূত্র ও কৃষিজমির পানির সঙ্গে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু নদী, খাল ও ভূগর্ভস্থ পানিতে পৌঁছাতে পারে। এর মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলেও এসব জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাও পরিবেশে এএমআর বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়। মানুষের মলমূত্রের সঙ্গে থাকা ওষুধের অবশিষ্টাংশ ও রেজিস্ট্যান্স জিন যথাযথভাবে পরিশোধন না হলে তা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরে এসব দূষণ কৃষিজমি ও পানির উৎসেও পৌঁছাতে পারে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বর্জ্য ও wastewater ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত ঘাটতি থাকায় এ ধরনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সীমাবদ্ধতার কারণে দূষিত পানি মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি হয়। এতে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এএমআর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বন্যা, খরা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে পানি ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ে। এর ফলে দূষিত পানি ও বর্জ্যের বিস্তার এবং মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের মধ্যে জীবাণুর সংস্পর্শের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে এএমআরকে শুধু চিকিৎসা বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও পরিবেশ—সবগুলো খাতের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। পরিবেশে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর বিস্তার কমাতে বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।