ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৫ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

অর্থনীতির মঞ্চে দিগন্ত বদলের গল্প

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১:৪৮ বিকাল

Link Copied!

সময় যেন এক অবিরাম নদী—যেখানে প্রবাহিত হয় সভ্যতা, প্রযুক্তি আর অর্থনীতির ধারা। ১৯৮০ সালে এই নদীর তীরে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে শক্তিশালী অর্থনীতির নাম ছিল যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান। তখন বিশ্ব দুই পরাশক্তিতে বিভক্ত—পুঁজিবাদ আর সমাজতন্ত্রের টানাপোড়েনে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমুখী অর্থনীতি এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিকল্পিত অর্থনীতি একে অপরের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা দুই দিগন্ত। জাপান তখন দ্রুত শিল্পোন্নয়নের পথে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তুপ পেরিয়ে এক অর্থনৈতিক বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল।

১৯৯০ সালে ছবিটা কিছুটা বদলে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগমুহূর্তে বিশ্ব অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তনের ছাপ দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র তখনো প্রথম স্থানে অটল, জাপান উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন পিছিয়ে পড়ে তৃতীয় স্থানে। প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং উৎপাদনশীলতার দিক থেকে জাপান হয়ে ওঠে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিকল্পিত অর্থনীতি তখন গতি হারিয়ে ফেলেছে; পরবর্তী দশকে এর পতন বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্যে গভীর পরিবর্তন আনে।

২০০০ সালে বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির তালিকায় আসে নতুন এক নাম—জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্র তখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে শীর্ষে, দ্বিতীয় স্থানে জাপান, আর তৃতীয় স্থানে উঠে আসে পুনরায় একতাবদ্ধ জার্মানি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ইউরোপের অর্থনৈতিক ভারসাম্যে জার্মানি হয়ে ওঠে মূল চালিকাশক্তি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গঠন, ইউরো মুদ্রার প্রচলন, এবং জার্মান শিল্পের পুনর্জাগরণ একে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

২০১০ সালে ইতিহাসে ঘটে নতুন মোড়। এই সময় চীন তার অর্থনৈতিক জাগরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়। কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে উৎপাদনশীল শিল্পনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হয়ে চীন উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। যুক্তরাষ্ট্র তখনও প্রথম, কিন্তু চীনের উত্থান এক নতুন বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা করে। জাপান তৃতীয় স্থানে অবস্থান বজায় রাখে, তবে তার অর্থনৈতিক গতি তখন অনেকটাই স্থিতিশীল।

২০২০ সালের চিত্র প্রায় অপরিবর্তিত থাকে—প্রথম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় স্থানে চীন, তৃতীয় স্থানে জাপান। কিন্তু এই সময় বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্র ধীরে ধীরে পশ্চিম থেকে পূর্বে সরে যেতে থাকে। চীনের “বেল্ট অ্যান্ড রোড” উদ্যোগ, প্রযুক্তি শিল্পের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বিস্তার এশিয়াকে বিশ্ব অর্থনীতির নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু করে।

২০২৫ সালে তালিকায় সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন তাদের অবস্থান ধরে রাখলেও তৃতীয় স্থানে উঠে আসে জার্মানি, জাপানকে পেছনে ফেলে। ইউরোপের এই দেশটি তার শিল্প, প্রযুক্তি ও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে উঠে আসে। জার্মানির টেকসই জ্বালানি নীতি, অটোমোবাইল শিল্প এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।

২০২৮ সালের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা বিশ্বের অর্থনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। প্রথম স্থানে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় স্থানে চীন, কিন্তু তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে ভারত। এটি শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়—এটি এক পরিবর্তনের প্রতীক। ভারতের প্রযুক্তি, সেবা খাত এবং যুবশক্তিনির্ভর অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি শিক্ষা, অবকাঠামো এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

আর ২০৫০ সালের দিকে তাকালে দেখা যায় এক সম্পূর্ণ নতুন পৃথিবী। PwC-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, তখন প্রথম স্থানে থাকবে চীন, দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, আর তৃতীয় স্থানে ভারত। এশিয়া তখন বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। চীনের উৎপাদনশীলতা, ভারতের মানবসম্পদ ও উদ্ভাবন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব—এই তিন শক্তি ভবিষ্যতের বিশ্বকে গঠন করবে।

এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বোঝা যায়, অর্থনীতি কেবল মুদ্রা বা পরিসংখ্যান নয়; এটি এক চলমান গল্প—সভ্যতার বিবর্তনের গল্প। ১৯৮০ সালের সোভিয়েত ছায়া থেকে ২০৫০ সালের এশিয়ান সূর্যোদয় পর্যন্ত মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি কখনো স্থির থাকে না। এটি চলমান, পরিবর্তনশীল, এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলা এক অনন্ত নদী, যার গন্তব্য নতুন দিগন্তে—যেখানে পূর্ব আর পশ্চিমের সীমা মুছে গিয়ে তৈরি হয় এক সত্যিকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক যুগ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে মানসম্পন্ন গবেষণার আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

৩৯ সেকেন্ডে দুই ভূমিকম্প, কাঁপল ভেনেজুয়েলা ও জাপান

তিন দশকের আস্থার নাম চট্টগ্রাম মেইল, নেই কোনো সাপ্তাহিক ছুটি

দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

উপায়-ফুডপান্ডা চুক্তি, লেনদেন হবে আরও সহজ

হামে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৯

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৭

Unilever Bangladesh Organizes Environmental Journalism Workshop at the University of Chittagong

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সাংবাদিকতা কর্মশালা আয়োজন করল ইউনিলিভার বাংলাদেশ

CIKITSA International Partners with SBAC Bank to Expand Healthcare Access

এসবিএসি ব্যাংকের গ্রাহক ও কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা দিতে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি

DMP will toughen traffic laws and speed limits guideline enforcement