ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

ই-সিগারেটে নিষেধাজ্ঞা বহালে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২, ২০২৬ ৫:০৭ অপরাহ্ণ । ৩ জন

তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট এর আগ্রাসী বিস্তার রোধ এবং জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ করা হয় এবং একই বছর ডিসেম্বরে অধ্যাদেশের মাধ্যমে ই-সিগারেটের আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি অধ্যাদেশটি থেকে ক্ষতিকর ই-সিগারেটের ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ সুরক্ষায় অধ্যাদেশে ই-সিগারেটের ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বহালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)

গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই চিঠি পৌঁছে দিয়ে এসেছেন বাটার প্রতিনিধিরা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার ধূমপান ত্যাগে সহায়তার লক্ষ্যে কুইট লাইন চালু করেছে এবং সহায়ক ঔষধসমূহ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ তামাক কোম্পানিগুলো কম ক্ষতিকর উল্লেখ করে এটি প্রসারের চেষ্টা করছে। যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ধূমপান ত্যাগে সহায়ক উপায় হিসেবে ই-সিগারেট ব্যবহারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং যৌক্তিকতাও নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচসহ উদীয়মান তামাকজাত পণ্যসমূহ প্রচলিত তামাকের মতোই আসক্তি সৃষ্টিকারী। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও অধিক ক্ষতিকর। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ বিশ্বের অন্তত ৪৭টি দেশ ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ই-সিগারেট নিষিদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাটা। চিঠির পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছে তারা।

তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ইব্রাহীম খলিল বলেন, ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের নেতৃত্বেই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা হয়। সময়ের ব্যবধানে আইনটি শক্তিশালী করার প্রয়োজন হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইস্তেহারেও জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে ওয়াদা করা হয়েছে। ফলে সরকার কেনো এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে চায় সেটা স্পষ্ট নয়। ই-সিগারেট নিষিদ্ধ না করলে দেশের জনস্বাস্থ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।