
অক্টোবর শুরু হতেই দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস মিলতে শুরু করেছে। কমছে বৃষ্টির প্রবণতা। ভোর ও রাতে দেশের কোথাও কোথাও হালকা শীতের অনুভূতিও পাওয়া যাচ্ছে। তবে দিনের বেলায় এখনো গরমের দাপট রয়েছে। সূর্য ডোবার পর সন্ধ্যায় কিছুটা শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন—এবার কি শীত আগেভাগেই আসছে?
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অক্টোবরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, চলতি মাসের প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে পারে। একই সঙ্গে পুরো অক্টোবরজুড়ে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টিপাত কমে আকাশ পরিষ্কার থাকলে রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এর প্রভাব সাধারণত আগে অনুভূত হয়। ফলে এসব এলাকায় ভোর ও রাতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।
তবে অক্টোবরের শুরুতেই শীতের অনুভূতি পাওয়া গেলেও এখনই দেশে শীত চলে এসেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। শীতের প্রকৃত আগমনের বিষয়টি নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রার পরিবর্তনের ওপর।
এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) বৈশ্বিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে শুধু এল নিনোর ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে আসন্ন শীত কেমন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের শীতের তীব্রতা ও সময় নির্ধারণে আঞ্চলিক আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং পরবর্তী স্থানীয় পূর্বাভাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শীতের প্রভাব শুধু তাপমাত্রা কমে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরাঞ্চলের কুয়াশা, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ এবং কৃষিকাজের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। তাই এবার শীত কবে নাগাদ শুরু হবে এবং এর তীব্রতা কেমন হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে অক্টোবরের প্রথম দিকে বৃষ্টি কমে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে এটিকে শীতের আগাম আগমন না বলে শীতের পূর্বাভাসের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখাই বেশি যুক্তিযুক্ত।