
শীত আসার আগেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি সরকার। শীতকালে বায়ুর মান দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে কয়েক ধাপে নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ, পার্কিং ফি দ্বিগুণ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ কর্মীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বিধিনিষেধের বড় অংশ আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়ে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিকস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হবে। তবে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) পরিচালিত পার্কিং এলাকা এ সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত থাকবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ধুলা সৃষ্টি করে এমন ভাঙার কাজ এবং খোলা জায়গায় সিভিল নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। এরপর ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
অফিসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লির (এমসিডি) অফিস সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। অন্যান্য সরকারি অফিসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত।
এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে। অর্থাৎ অর্ধেক কর্মী অফিসে এবং বাকি অর্ধেক কর্মী ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে কাজ করবেন।
বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বৈধ ‘পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল’ (পিইউসি) সনদ ছাড়া যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইকোনমিকস টাইমস জানিয়েছে, ‘নো পিইউসি, নো ফুয়েল’ নীতির আওতায় বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকা গাড়িকে জ্বালানি না দেওয়ার ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ বা নির্ধারিত সময়সীমা পার করা যানবাহন শনাক্ত করতে পেট্রল পাম্পগুলোতে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতি বছর শীতকালে দিল্লিতে বায়ুদূষণ তীব্র আকার ধারণ করে। তাপমাত্রা কমে যাওয়া ও বাতাসের গতি কম থাকায় দূষিত কণা দীর্ঘ সময় শহরের বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকে। এর সঙ্গে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর কারণে দূষণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
এবার দূষণ তীব্র হওয়ার পর জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে দিল্লি সরকার।
সূত্র: দ্য ইকোনমিকস টাইমস