ঢাকাবুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ বিকাল

Link Copied!

পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে সব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে শুরু হওয়া ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা মানুষ, প্রাণী, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের পারস্পরিক সংযুক্ত সুস্থতার ওপর নির্ভর করে। ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, একই ভূদৃশ্যে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকায় একটি খাতে চাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য খাতেও পড়ে। তাই পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।

আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ওয়ান হেলথকে শুধু একটি ধারণা হিসেবে নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাঠামো গড়ে তুলছে।

এই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে টেকসই সমন্বয় গড়ে তুলতে পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদের মাধ্যমে এ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে।

প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পরিবেশমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রোমের সম্মেলনের আলোচনার অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরতে এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে শেখার প্রস্তুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের আলোচনাকে বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউ, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. এমউইগুলু এনচেম্বা, সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী দুরো ম্যাকুট, মোজাম্বিকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উসেনি হিলারিও, কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এভেলিন নায়ের মন্টেইরো রামোস, ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী জেনেভার্ড অ্যানি, আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী টি.ডি. মার্টিন হেইডনসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সন্ধ্যার মধ্যে ৭ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

উপকূলের দিকে গভীর নিম্নচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩

পাসপোর্ট হারালে এবার দিতে হবে বাড়তি ১০ হাজার টাকা!

‘জলবায়ু পদক্ষেপ রাজনীতির জন্যও ভালো’-ব্রিটিশ জলবায়ুমন্ত্রী

জরুরি ঝুঁকি মোকাবিলায় সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

ভাটারায় দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ২, উদ্ধার ১১ জেলে

অটোরিকশার চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

সংঘাত তীব্র হওয়ায় ইয়েমেনে বড় ধরনের শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা

স্বাধীন তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ