ঢাকাশনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

আজ যেখানে ঘর, কাল সেখানে পদ্মা: জাজিরায় তীব্র নদীভাঙন

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:২৯ বিকাল

Link Copied!

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবার আলম খাঁর কান্দী এলাকায় পদ্মা নদীতে নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বসতবাড়ি, দুটি দোকান, ফসলি জমি ও ইটের সড়কের অংশ। ভাঙন ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের প্রায় ৪০০ পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তীব্র স্রোতের আঘাতে প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। চোখের সামনে বসতভিটা, ফসলি জমি, দোকান ও সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন নদীপাড়ের মানুষ।

ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার স্রোত তীব্র বেগে তীরে আছড়ে পড়ছে। কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়ছে, আবার কোথাও চলছে ঘরবাড়ি সরানোর ব্যস্ততা। কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ বাঁশ-কাঠ খুলে নিচ্ছেন। কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই দিনে অন্তত ৩৫টি বসতঘর, গবাদিপশু ও দুটি দোকান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙন থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, ‘চোখের সামনে বাড়ির পাশের মাটি নদীতে চলে যাচ্ছে। শেষ সম্বলটুকু কীভাবে বাঁচাব, সেটাই এখন চিন্তা। ঘর সরিয়ে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

ইসমাইল নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘নদী কখন কোন দিক থেকে ভেঙে পড়ে, বলা যায় না। পরিবার নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।’

শুধু বসতবাড়িই নয়, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর, কলাবাগান, বালুরটেক এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও স্থানীয় বাজার। ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে এসব স্থাপনাও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তা ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়বে।

ভাঙন পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণেই ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিলটন হোসেন বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে ভাঙনে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানিয়েছেন, ভাঙনের কারণে যেসব পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হচ্ছে, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন ঠেকাতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পদ্মার তীরে এখন প্রতিটি দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। কখন নদীর স্রোতে হারিয়ে যাবে বসতভিটার শেষ চিহ্ন—এই শঙ্কা নিয়েই দিন পার করছেন শত শত মানুষ। যে উঠানে একসময় শিশুদের ছুটোছুটি ছিল, যে ঘরে ছিল সংসারের হাসি-কান্না, সেই ঘরই এখন সরিয়ে নিতে হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

টিসিবির কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তর, সাশ্রয় হবে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা

দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণ করবে সরকার

চীনে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধার ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, সম্ভাব্য নাম ‘অর্নব’

‘সমন্বিত জলবায়ু পদক্ষেপ’ রক্ষা করতে পারে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ

২০২৬ সালের ১২ সিনেমায় ৭৫১ বার দেখানো হয় ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য

রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন জরুরি

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কুষ্টিয়ায় ফের বিএটিবি কর্মীদের মানববন্ধন

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি ও জনবলে শক্তিশালী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

হাওরে হাঁস চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

টিসিবির কার্যক্রমে আসছে ডিজিটাল নজরদারি, বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী

আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত