
বাংলাদেশে ১১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে আসা বহুজাতিক সিগারে কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) সরকারের মোট রাজস্বের প্রায় ১০ শতাংশ যোগান দিয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি শ্রম আইন লঙ্ঘন, অবৈধ মজুদের মাধ্যমে শুল্ককর ফাঁকি, আয়ের তথ্য গোপন, ব্যান্ডরোল ও স্টাম্প অপচয় দেখানো এবং সিগারেটের দাম পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। শত কোটি টাকার কর ফাঁকির খবর প্রকাশের পর এ সংক্রান্ত নথি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠিও দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এসব অনিয়ম ও রাজস্ব সংক্রান্ত সংবেদনশীল নথি গণমাধ্যমে আসায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএটিবি। এ ঘটনায় এনবিআর এবং এর অধীনস্থ বৃহৎ করদাতা ইউনিটকে (এলটিইউ) দায়ী করে গত ২৭ আগস্ট অর্থমন্ত্রীর কাছে লিখিত নালিশ জানিয়েছে কোম্পানিটি।
চিঠিতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। করদাতা ও এনবিআরের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ধরে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে তথ্য ফাঁস হলো তার তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ অর্থমন্ত্রীর কাছে মোট চারটি দাবি পেশ করেছে বিএটিবি।
এ বিষয়ে বিএনটিটিপির সিনিয়র প্রজেক্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিএটিবির কর ফাঁকির ঘটনাগুলো এলটিইউর মাধ্যমেই উন্মোচিত হয়েছে, যা পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বারবার ফাঁকির তথ্য প্রকাশ করায় এলটিইউর ওপর ক্ষোভ থেকেই কোম্পানিটি এ ধরনের অভিযোগ এনেছে। আইনি আপত্তি জানানো কোম্পানির অধিকার হলেও তামাকজাত প্রতিষ্ঠানের তথ্যে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা এবং তা জনগণের জানার অধিকার থাকা জরুরি। জনস্বার্থে কাজ করা একটি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ও ব্যবস্থার দাবি তোলাকে জনস্বার্থবিরোধী এবং অত্যন্ত নেতিবাচক পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, তারা দুর্নীতি করলে সমস্যা নেই কিন্তু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেই তাদের মানসম্মান চলে যায়। কারণ বিএটিবি বিশ্বের অন্য দেশে যেভাবে সচ্ছভাবে ব্যবসা করে বাংলাদেশে সেভাবে করছে না। তারা দেশের আইনকে চ্যালেঞ্জ করছে। সরকারের উচিত তাদের সবধরনের অনিয়মন ও দুর্নীতি আরও ব্যপকভাবে অনুসন্ধান করা।