
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমানে আগুন ধরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানের লুইস মুনোজ মারিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসা বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে যায়।
পরে বিমানটি বিমানবন্দরের আশপাশের একটি সড়ক পার হয়ে কয়েকটি যানবাহনে ধাক্কা দেয়। এরপরই বিমানে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন মানুষ তাদের গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। উদ্ধারকর্মীরা বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের উদ্ধার করেন।
বিমানটি ছিল একটি বোয়িং ৭৬৭, যা অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের হয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। মিয়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। অন্য দুজনকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা বিমানের আরোহী ছিলেন, নাকি মাটিতে থাকা যানবাহনের যাত্রী—তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ বিভাগের প্রধান রে জাদাল্লাহ ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বিমানের ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলট আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধারে কাজ করেন। দুর্ঘটনাস্থলে বিমানের জ্বালানি ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকাশ ও স্থল—দুই ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে অন্য কোনো বিমানকে অবতরণ বা উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কয়েক ঘণ্টা পরও বিমানের জ্বালানি লিকেজ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন দমকলকর্মীরা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা থেকে বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে বন্ধ রয়েছে এবং বিমান চলাচলে গ্রাউন্ড স্টপ জারি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলের দিকে বিমানবন্দরে প্রায় ২৫০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, প্রাইম এয়ারের ফ্লাইট ৭৫৯৮ অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত করবে সংস্থাটি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাটি তদন্তে একটি দল পাঠিয়েছে।
অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত। দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান