
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের Grand Canyon National Park-এ আকস্মিক বন্যায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন পার্কের রেঞ্জাররা।
রোববার (৩০ আগস্ট) ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, ২০ জনের বেশি মানুষের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর আনাদোলুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম অভ্যন্তরীণ এলাকায় কলোরাডো নদীর তীরে অবস্থিত ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও পার্কের এই অংশটি অত্যন্ত দুর্গম।
পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার ওই এলাকায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব হাইকারের ক্যাম্পগ্রাউন্ডে থাকার রিজার্ভেশন ছিল অথবা যারা ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোর দিয়ে চলাচল করছিলেন, তাদের সম্পর্কে তথ্য থাকলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের কর্মীরা অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন।
রোববার সকালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্যান্টম র্যাঞ্চ ও লোয়ার নর্থ কাইবাব ট্রেইল থেকে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত অন্য কোনো আহত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রবল স্রোতে পার্কের ট্রেইল অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কলোরাডো নদীর গুরুত্বপূর্ণ উপনদী ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে ওই জলধারা পার হয়ে হাইকারদের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে ফ্যান্টম র্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে পার্ক সার্ভিস। কলোরাডো নদীর ওপর থাকা ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে।
বন্যার পানিতে ধাতব কাঠামোসহ বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে নদীতে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পার্ক কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে ধ্বংসাবশেষের স্রোত ও পাহাড়ি পাথর ধসের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এর আগে, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি নেপালের পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ৮০৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এখনো তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।