
জাপানের রাজধানী টোকিও ও পার্শ্ববর্তী কান্তো অঞ্চলে ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর আগামী সপ্তাহজুড়ে আরও শক্তিশালী কম্পনের আশঙ্কায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২২ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয় জাপানের দক্ষিণাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী টোকিওতে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইবারাকি জেলার ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল।
ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে কম্পনের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে পরবর্তী কয়েক দিন আরও তীব্র ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সাইতামা, কানাগাওয়া, চিবা ও ইবারাকি—এই চার জেলায় মোট ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে কিংবা দরজা ও আসবাবপত্রের আঘাতে আহত হন। কানাগাওয়ার ইয়োকোহামা শহরে ৮০ বছর বয়সী এক নারী বিছানা থেকে পড়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় ভোর হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ শক্তিশালী কম্পনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ভূমিকম্পের প্রভাবে টোকিও থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী রেল নেটওয়ার্কে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগ্নেয় মেখলা অঞ্চলে অবস্থানের কারণে জাপানে ভূমিকম্প নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৭ শতাংশই দেশটিতে ঘটে।