ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

শব্দদূষণে অতিষ্ঠ কুমিল্লাবাসী, মানছে না নতুন বিধিমালাও

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ অগাস্ট ২০২৬, ২:০৪ বিকাল

Link Copied!

যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে কুমিল্লা শহরে বাড়ছে শব্দদূষণ। একসময় তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের এই শহরে এখন যানবাহনের হর্ন, মাইক, সাউন্ডবক্স, নির্মাণকাজ, অটোরিকশা গ্যারেজ ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নানা অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশে যথেচ্ছভাবে মাইক ও সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা হচ্ছে। আবাসিক এলাকার অটোরিকশা তৈরির গ্যারেজ ও বিভিন্ন দোকানে লোহা ও এসএস স্টিল কাটার তীব্র শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি নির্মাণের সময় ইট-কংক্রিট ভাঙা, টাইলস কাটার মেশিন এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির শব্দেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্নের বিকট শব্দ। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, গান-বাজনা ও অন্যান্য আয়োজনে উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স বাজানোর কারণেও শব্দদূষণ বাড়ছে।

এদিকে শব্দদূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে সর্বসাধারণকে বিধিমালার বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শব্দদূষণ মানবস্বাস্থ্য, জনজীবন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এলাকা অনুযায়ী শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং মিশ্র এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা অনুমোদিত।

কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি দেওয়া হলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং ব্যবহারের সময় পাঁচ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।

নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী যেকোনো ধরনের হর্নের উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিক্রি, বিতরণ, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি পটকা, আতশবাজি বা শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।

আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না। তবে এসব বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে কুমিল্লায় আইন অমান্য করে শব্দদূষণ অব্যাহত রয়েছে।

নগরীর তেলিকোনা চৌমুহনীর ব্যবসায়ী মো. কাইয়ুম বলেন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের সভা-সমাবেশ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, গান-বাজনা, সার্কাস, মেলা, লটারির টিকিট বিক্রি, রাস্তার পাশে ওষুধ বিক্রি এবং বিভিন্ন পণ্যের প্রচারে মাইক ব্যবহার করা হয়। এমনকি মাইক বাজিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠানেও উচ্চ শব্দে মাইক ও লাউডস্পিকার ব্যবহার করা হচ্ছে। কুমিল্লার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছাদেও উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র বলেন, কুমিল্লায় শব্দদূষণ অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হলেও বাংলাদেশে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় শব্দদূষণ বাড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজিব জানান, কুমিল্লার নয়টি এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা বেশি। এলাকাগুলো হলো—শাসনগাছা বাস টার্মিনাল, জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল, কান্দিরপাড়, টমছম ব্রিজ, রাজগঞ্জ মোড়, চকবাজার, পদুয়ার বাজার, আলেখারচর এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ-সংলগ্ন এলাকা।

তিনি বলেন, এসব এলাকার মধ্যে শাসনগাছা, জাঙ্গালিয়া ও কান্দিরপাড়ে শব্দের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।

ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, কুমিল্লায় শব্দদূষণ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কেউ কোনো আইন মানছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, দেশে শব্দদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় আবাসিক এলাকায় কলকারখানা, অটোরিকশা গ্যারেজসহ বিভিন্নভাবে শব্দদূষণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে বিবেকবোধ ও সচেতনতা তৈরি না হলে শব্দদূষণ বাড়তেই থাকবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রোববার (৯ আগস্ট) সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শব্দদূষণ প্রতিকারে জেলা প্রশাসক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে নিয়ে ইতোমধ্যে সভা করা হয়েছে। সভায় শহরের অটোরিকশা ও বিভিন্ন যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, শব্দদূষণ প্রতিকারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

আইন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে কুমিল্লার শব্দদূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু

ভিভো ভি৮০: নতুন রং ও নতুন ডিজাইনে আসছে নতুন চমক