
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু পরিচ্ছন্নতা খাতেই ৩২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিচ্ছন্নতা খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমে ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় নেমে আসে। এবার সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩২৭ কোটি টাকা করা হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, সরকারের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে শিফটভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সড়কভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে বিডি ক্লিন ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে মতিঝিলে সিটি ইন্সপেক্টর নিয়োগ দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ক্লিন কেয়ার’ মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইন চালু করা হয়েছে এবং প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ইতোমধ্যে ছয়টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এসটিএসকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্থাপনায় রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মিথেন গ্যাসজনিত অগ্নিকাণ্ড ও পরিবেশ দূষণ রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডফিলকে ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’-এ রূপান্তরের পাশাপাশি সেখানে একটি অত্যাধুনিক কম্পোস্ট প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষা শুরুর আগেই নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। নগরীর ৭৫টি ওয়ার্ডে ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পোর্টেবল পাম্প ও সাকার মেশিন মোতায়েনের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে আটটি নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সায়েন্স ল্যাব-নিউ মার্কেট-আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট থেকে সোয়ারীঘাট পর্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আউটলেট নির্মাণের অনুমোদন ইতোমধ্যে মিলেছে।
এছাড়া জিয়া সরণি খাল, কুতুবখালী খালসহ বিভিন্ন খালের পুনঃখনন ও সংস্কার এবং ৫৭টি ওয়ার্ডের জন্য সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজও চলছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্নতা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ, প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সমন্বিত ড্রেনেজ উন্নয়নের মাধ্যমে রাজধানীর দক্ষিণ অংশকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করা হবে।