ঢাকাবুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

পদ্মার গতিপথ বদলে মুন্সীগঞ্জে নদীভাঙনের শঙ্কা, ঝুঁকিতে তীররক্ষা বাঁধ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫ সকাল

Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে পদ্মা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পদ্মার একটি শাখা নদী মূল চ্যানেলে পরিণত হওয়ায় তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার শিলই, বাংলাবাজার এবং লৌহজং উপজেলার গাওঁদিয়া এলাকায় অব্যাহত ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে নদীতীর রক্ষা বাঁধ এবং নদীপাড়ের বসতবাড়ি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, লৌহজংয়ের গাওঁদিয়া এলাকায় পদ্মার মূল চ্যানেল সরে আসায় প্রায় ৫০০ মিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই গাওঁদিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আকস্মিক ভাঙনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই তাদের বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ভাঙনের কারণ অনুসন্ধানে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, নদীর ওই অংশে গভীরতা প্রায় ২৫ মিটার, যা প্রকল্পের নকশা তৈরির সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। নদীর মূল চ্যানেল তীরের আরও কাছে চলে আসায় তলদেশে গভীর ক্ষয় (স্কাওয়ার) সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নদীতীরের মাটি ধসে ভাঙন তীব্র হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল জানান, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ, সতর্কতামূলক বাঁধ এবং বিদ্যমান বাঁধ শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের নকশা তৈরির সময় যে অংশটি পদ্মার শাখা চ্যানেল ছিল, বর্তমানে সেটিই মূল চ্যানেলে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই গাওঁদিয়া এলাকায় অপ্রত্যাশিত ভাঙন দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ হাইড্রোলিক ও মরফোলজিক্যাল তথ্য অনুযায়ী বাঁধের নকশা নিয়মিত হালনাগাদ না করলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে সদর উপজেলার শিলই ও বাংলাবাজার এলাকাতেও পদ্মার গতিপথ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। নদীর মূল স্রোত এখন এসব এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শম্ভুহালদার কান্দি, সরকারকান্দি, বানিয়াল ও মহেশপুর এলাকায় কয়েক বছর ধরেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে পদ্মার চ্যানেল ধীরে ধীরে উত্তর-পূর্ব দিকে সরে আসে। ২০১৫ সালের পর নদীর মূল চ্যানেল তীরের আরও কাছে চলে আসায় তলদেশে গভীর ক্ষয় শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে ভয়াবহ ভাঙনে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়।

চলতি বর্ষা মৌসুমেও শিলই ও বাংলাবাজার এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, শিলই ইউনিয়নের পূর্বরাখী এলাকায় ১২ হাজার জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এছাড়া শম্ভুহালদারকান্দি এলাকায় ১৮ হাজার জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

পদ্মার গতিপথ বদলে মুন্সীগঞ্জে নদীভাঙনের শঙ্কা, ঝুঁকিতে তীররক্ষা বাঁধ

অতিবৃষ্টির বন্যায় মানিকগঞ্জে ৪,৮৮৫ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, সহায়তার আশ্বাস

টুথপেস্টের পর এবার দুধ-চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

যে কারণে প্রতিদিন অজান্তেই প্লাস্টিক খাচ্ছেন আপনি

বয়স বাড়লে যেভাবে বদলাবেন আপনার খাবার

বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর চিকিৎসায় আসল নতুন সাফল্য

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ

গণপরিবহনে ভোগান্তি, বাড়তি খরচ ও হয়রানি: দুর্ভোগে কর্মজীবী নারীরা

সোনারগাঁয়ে ট্রাকের ধাক্কায় পথচারী নিহত, আহত ৪

ডাসারে খাল-বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত

সখিপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কৃষক নিহত

দেশে খাদ্যশস্যের রেকর্ড মজুত, গুদামে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টন