
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দুর্বল সিগন্যাল ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতার সমস্যা কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস কল ও উচ্চগতির ডেটা সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ‘অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম’ (অ্যাক্টিভ ডাস) স্থাপন করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৭০০টি স্মল সেল ও ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই ইউনিট। পুরো টার্মিনালজুড়ে ৪জি এবং ভবিষ্যতে ৫জি সংযোগ দেওয়ার উপযোগী করে নেটওয়ার্কটি তৈরি করা হবে।
বাসসের সঙ্গে আলাপকালে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী জানান, নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ দেওয়া হলে কাজ শুরু হবে।
প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক যেখানে মূলত বাইরের টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে তৃতীয় টার্মিনালের মতো বড় ইনডোর স্থাপনায় বিশেষ প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। রিইনফোর্সড কংক্রিট, স্টিলের কাঠামো ও বড় কাচের দেয়ালের কারণে মোবাইল সংকেত দুর্বল হয়ে যেতে পারে। নতুন এই প্রযুক্তি এসব সমস্যা মোকাবিলা করে পুরো টার্মিনালে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করবে।
প্রকল্পের আওতায় ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল, ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ ইনডোর এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা দেওয়া হবে।
সরকারি অর্থায়নে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড বাস্তবায়ন করছে প্রকল্পটি। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূলধনী ব্যয় ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, রাজস্ব ব্যয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ও দৈব ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, তৃতীয় টার্মিনালের বিভিন্ন অংশে বর্তমানে দুর্বল মোবাইল সিগন্যাল, কল বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ধীরগতির ইন্টারনেটের মতো সমস্যা রয়েছে। নতুন নেটওয়ার্ক চালু হলে এসব সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী চলাচল করেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়।
যাত্রী সংখ্যা ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, শক্তিশালী ও উচ্চগতির মোবাইল নেটওয়ার্ক যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি বিমানবন্দরের কার্যক্রম, পর্যটন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।