
শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণ করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এবারের মেলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ৫১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাচিং প্রু জেরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি চারা রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পার্বত্য চট্টগ্রামেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চারা রোপণ করা সম্ভব। তবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে পরিচর্যার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে একসময় চাঁপাফুল, গর্জন ও চাপালিশের মতো মূল্যবান দেশীয় গাছের আধিক্য ছিল, যা বর্তমানে অনেক কমে গেছে। তাই পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান বন সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিতভাবে নতুন বনাঞ্চল গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বন বিভাগ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বান্দরবানে প্রায় ৮৩ শতাংশ বন আচ্ছাদন রয়েছে। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে বন সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০২১ সাল থেকে দেশীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং ধনেশ পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় দেশীয় প্রজাতির উঁচু গাছ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, চলতি বছরে বান্দরবানে কৃষি বিভাগ ২২ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করবে। একই সঙ্গে সবাইকে নিজ নিজ জায়গায় অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তারা।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ) আবু ইউসুফ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।