
গত মে মাসে দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে। এক মাসে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৩ জুন) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে শুধু সড়কপথেই ৬১৩টি দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হন। একই সময়ে নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সংগঠনটি জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়া অনেক ঘটনা হিসাবের বাইরে থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলকে ঘিরে। ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত এবং ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ।
বিভাগীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।
দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন—যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার ৪২.০৮ শতাংশ ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৩২.৩০ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কায় এবং ১৮.৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করছে, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।