
চট্টগ্রাম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ – নগরীর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির সাথে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বিশ্বব্যাপী রোড ক্র্যাশে মৃত্যু ও আঘাত কমানোর লক্ষ্যে আজ স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত সিটিল্যাব ২০২৬-এ বিআইজিআরএস কর্মসূচির ঘোষণা দেন ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিসের প্রতিষ্ঠাতা ও নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। ২০২২ সাল থেকে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সড়ক নকশা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রতি বছর বিশ্বে ১০ লাখের বেশি মানুষ সড়কে প্রাণ হারায় এবং আরও ২ থেকে ৫ কোটি মানুষ আহত হন, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ২০২৫ সালে দেশে রোড ক্র্যাশে নিহত ৫,৪৯০ জন। অধিকাংশ ক্ষেতত্রেই এসব মৃত্যু ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থার ফল; যেমন অপরিকল্পিত সড়ক, এবং এমন নীতিমালা ও নগর পরিকল্পনা যা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার চেয়ে যানবাহনের গতি বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
চসিক ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ২০২৫ সালে প্রকাশিত চট্টগ্রাম সিটি রোড সেফটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরে ক্র্যাশে অন্তত ৬৬২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়কালে নগরীর সড়কে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন পথচারীরা—৩৬৩ জন, যা মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পথচারী মৃত্যুহার ৪৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। পথচারীদের পর সবচেয়ে ঝুঁকিতে ছিলেন দুই ও তিন চাকার যানবাহনের যাত্রীরা, যাদের মধ্যে ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নগরীর সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে বিআইজিআরএস কর্মসূচির অধীনে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে চসিক ।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই উদ্যোগ আমাদের চলমান প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে, যাতে আমরা চট্টগ্রামে সড়ককে আরও নিরাপদ করতে পারি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারি। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিসের সঙ্গে এই সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিকভাবে গৃহীত কৌশল বাস্তবায়ন করবো, যাতে আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং একটি টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।”
চট্টগ্রামে এই উদ্যোগের আওতায় সড়ক নিরাপত্তা নীতিমালা বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, গতি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, তথ্য ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের ঢাকা উত্তর ও চট্টগ্রামসহ বিশ্বের ১৩টি দেশের ৩০টিরও বেশি শহরে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে: বুয়েনোস আইরেস ও কর্দোবা (আর্জেন্টিনা); চট্টগ্রাম ও ঢাকা উত্তর (বাংলাদেশ); ক্যাম্পিনাস, সালভাদর, সাও পাওলো স্টেট ও রিও ডি জেনিরো (ব্রাজিল); কালি ও মেডেলিন (কলম্বিয়া); সান্তো ডোমিঙ্গো (ডোমিনিকান রিপাবলিক); গুয়ায়াকিল ও কুইটো (ইকুয়েডর); ওরোমিয়া স্টেট (ইথিওপিয়া); কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র (মুম্বাই ও পুনে সহ), দিল্লি (ভারত); মোম্বাসা ও নাইরোবি (কেনিয়া); কুয়ালালামপুর (মালয়েশিয়া); জালিস্কো স্টেট ও মেক্সিকো সিটি (মেক্সিকো); কাম্পালা (উগান্ডা); এবং দা নাং ও হ্যানয় (ভিয়েতনাম)।