ঢাকারবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬

আর্ক ফাউন্ডেশনের ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুজবের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১২, ২০২৬ ৬:১২ অপরাহ্ণ । ৫ জন

সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসের চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ভুল তথ্য ও গুজব। এই সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানের সঠিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে, ১২ই এপ্রিল ২০২৬ একটি বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করে ‘আর্ক ফাউন্ডেশন’। ‘ভুল তথ্যের যুগে বিজ্ঞানের সাথে: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রচেষ্টা’ শীর্ষক এই সভায় বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন, কিভাবে একটি ভুল তথ্য বা গুজব অনেক সময় মহামারির চেয়েও দ্রুত প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে হলে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

আর্ক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ম্যানেজার জুনায়েদ আল আজদির সঞ্চালনায় এই ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা আলী, আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ এবং আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক এবং সাংবাদিক শিশির মোড়ল ও তওসিয়া তাজমিম।

দীর্ঘদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (WHO) অসংক্রামক ব্যাধি বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক বলেন যে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসায়িক মুনাফা ও মার্কেটিংয়ের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত তথ্যগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত বা পরিবর্তন করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতার কথা তুলে ধরে ডা. মাহমুদা আলী বলেন, “যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনার পর যখন বাস্তবে একটি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, তখন নানারকম বাধা ও গুজব সামনে আসে। সরকার ও সিটি কর্পোরেশন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।”

অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান প্রতিটি খাতে সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং মানুষের পরিবর্তনশীল জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলোকে সাজানোর ওপর জোর দেন। সাংবাদিক শিশির মোড়ল উল্লেখ করেন যে, মূলধারার গণমাধ্যম তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে গুজব নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক সময় এটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে দেয়; তাই গুজব কারা ছড়াচ্ছে তা চিহ্নিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তওসিয়া তাজমিম বাংলাদেশে বর্তমানে চলমান হামের প্রকোপ নিয়ে নিজের সরাসরি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

ড. রুমানা হক ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি প্রতিটি খাতের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা সবাই মিলে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুজব ঠেকাতে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামোর দাবি জানান।