ঢাকাবুধবার , ১ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট নিষিদ্ধ রাখার দাবি তামাকবিরোধীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১, ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ণ । ১৭ জন

তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষা করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং বিক্রয়স্থলে (পয়েন্ট অব সেল) তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষেধের ধারা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশের তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।

বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো জানায়, তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ থেকে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সংগঠনগুলোর দাবি, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি তরুণদের নিকোটিন আসক্তির দিকে ধাবিত করে। পাশাপাশি বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্যের দৃশ্যমান প্রদর্শন শিশু ও কিশোরদের তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করে।

তারা আরও বলেন, এই দুটি ধারা বাদ দেওয়া হলে তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে এবং কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন আরও সহজ হবে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “জনস্বাস্থ্য ও তরুণদের সুরক্ষার স্বার্থে এই ধারা দুটি অবিলম্বে পুনরায় যুক্ত করা প্রয়োজন। মুনাফার চেয়ে মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তামাক ব্যবহারে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাতের রাজস্ব আয়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন।

তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব আরও বাড়বে।