
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচল খাতে। ফুয়েলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় একের পর এক জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সগুলো। ফ্লাইট পুনর্বিন্যাস থেকে শুরু করে টিকিটের দাম বৃদ্ধি—সব দিকেই চাপ বাড়ছে বিমান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর ওপর।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় আকাশপথেও বাড়ছে অস্থিরতা। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে এশিয়ার বিমান সংস্থাগুলো। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা Korean Air জরুরি অবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ স্থগিত, ফ্লাইট সংখ্যা কমানো এবং ব্যয় সংকোচনের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। একই চাপে রয়েছে দেশটির Asiana Airlines এবং Air Busan।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হলেও তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ চীন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সরাসরি প্রভাব ফেলেছে দেশটির বিমান খাতে। ফলে উচ্চ ব্যয় ও বাজার অনিশ্চয়তায় পড়েছে চীনের এভিয়েশন সেক্টর।
এরই মধ্যে ফ্লাইটে ফুয়েল সারচার্জ বাড়িয়েছে China Southern Airlines এবং China Eastern Airlines। এতে অতিরিক্ত খরচের চাপ সরাসরি পড়ছে যাত্রীদের ওপর।
প্রস্তুতিমূলক অবস্থায় রয়েছে জাপানও। ভারতে Air India মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট পুনর্বিন্যাস করছে, যার ফলে ফ্লাইট কমার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে Singapore Airlines ভাড়া বাড়িয়েছে, যেখানে জ্বালানি খরচ তাদের মোট ব্যয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ।
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিলিপিন্সও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিমান ভাড়া আরও বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।