ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

কক্সবাজার সৈকতে ৮০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দখলমুক্ত কলাতলী পয়েন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৭, ২০২৬ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ । ১ জন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী পয়েন্টে অবস্থিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকা ও বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। টানা পাঁচ দিনের অভিযানে সৈকতের দুটি পয়েন্ট থেকে প্রায় ৮০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হওয়া অভিযানে প্রথমে সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠা দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়। পরে কলাতলী সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও সড়কের পাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, লোহার কাঠামো ও অস্থায়ী স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়। অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় তাদের দোকান সরিয়ে নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার এই সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল। স্থাপনার আশপাশে দোকান, কুটির এমনকি বসবাসের ঘটনাও ধরা পড়ে, যেখানে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চলছিল।

অভিযানের সময় সৈকতের কিটকট (চেয়ার-ছাতা) ব্যবসাতেও ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। দেখা যায়, অনেকেই অনুমোদনের চেয়ে বেশি চেয়ার-ছাতা বসিয়েছেন, আবার কেউ কেউ অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা চালাচ্ছেন। মালিকানা শনাক্ত করা যায়নি—এমন কিটকট জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত সৈকতে পূর্বে প্রায় ৫০০ চেয়ার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে দেড় হাজার ছাড়িয়েছে, ফলে পর্যটকদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান, বালিয়াড়ি ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। কিটকট ব্যবসার অনিয়মও যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পরিচালিত অভিযানে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের দাবি, পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সৌন্দর্যবর্ধিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দখলদারিত্ব ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।