ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে বড় ময়লার ভাগাড় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল গত কয়েকদিন ধরে আগুনে জ্বলছে। বিশাল ময়লার স্তূপে আগুন লাগার কারণে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে ডেমরা, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, জুরাইনসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশ পর্যন্ত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে নিশ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে। শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ছোট শিশুরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ভুগছে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের বিভিন্ন স্থানে একযোগে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা চলছে, তবে বিশাল ময়লার স্তূপের কারণে পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগবে। ফায়ার সার্ভিস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
ঢাকায় প্রতিদিন দুই সিটি করপোরেশনে প্রায় ৭,৫০০ টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ বর্জ্য সরাসরি ড্রেন, খাল ও জলাশয়ে মিশছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, “মানুষ যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলে, কিন্তু তাতে কোনো শাস্তি বা শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ফেলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তবে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ময়লাকে ওয়েলথ হিসেবে রূপান্তর করে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা সম্ভব।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, “শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নাগরিকরাও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্ব্যবহার, পৃথকীকরণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা শহরের বর্জ্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে এই ধরনের আগুন ও পরিবেশদূষণ নতুনভাবে বারবার ঘটতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ও নগরপরিবেশের জন্য বড় হুমকি।
স্থানীয়রা চাইছেন, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা রোধে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


