ঢাকামঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

ভোটের টানে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ, টার্মিনালজুড়ে ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ । ৫৪ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে ঘরে ফেরার ব্যস্ততা। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ঢাকা ছাড়ছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার ভোটাররা। এতে গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে তৈরি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়। অনেকের কাছে এই যাত্রা যেন ঈদের বাড়ি ফেরার আনন্দের সঙ্গে মিলেমিশে গেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে বাড়তে থাকে যাত্রীচাপ। সূর্য ওঠার আগেই প্ল্যাটফর্মে জড়ো হন শত শত মানুষ। কারও হাতে বড় ট্রলি ব্যাগ, কারও কাঁধে ব্যাকপ্যাক, কেউ শিশুদের হাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেনের ঘোষণা ভেসে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। মুহূর্তেই স্টেশন এলাকা হয়ে ওঠে সরব ও প্রাণচঞ্চল।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, দল বেঁধে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই। কেউ বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছেন, কেউ আবার চুপচাপ অপেক্ষা করছেন ট্রেনের জন্য। তবে সবার চোখেমুখেই ছিল উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। যদিও বাস সংকটে কিছু যাত্রীকে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাকিব হাসান বলেন, ‘বছরে এক-দুবারের বেশি বাড়ি যাওয়া হয় না। ভোটটা নিজের এলাকায় গিয়ে দিতে চাই। মনে হচ্ছে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি।’

শুধু রেলস্টেশন নয়, বাস টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই যাত্রীচাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। দূরপাল্লার বাসের টিকিট কাউন্টারে দেখা গেছে লম্বা লাইন। আগেভাগে টিকিট কেটে রাখা যাত্রীরা স্বস্তিতে থাকলেও শেষ মুহূর্তে টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই।

রেলওয়ে ও বাস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাত্রীচাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ট্রেন ও বাস চালানো হচ্ছে। কয়েকটি রুটে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে এবং কিছু ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। তবে নির্বাচন উপলক্ষে বাড়ি ফেরার আগ্রহ এত বেশি যে চাপ পুরোপুরি কমানো যাচ্ছে না।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ছুটি কার্যকর থাকবে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর টার্মিনাল ও স্টেশনগুলো এখন শুধু যাত্রাপথ নয়, যেন এক মিলনমেলা। ভোটের টানে শেকড়ে ফেরার এই স্রোতই জানান দিচ্ছে—নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কতটা প্রাণবন্ত।