ঢাকাশনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

২০২৬ সালের সামরিক শক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশ

বিপ্লব হোসাইন
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৫:০৪ অপরাহ্ণ । ৯০ জন

বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামরিক শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শুধু একটি দেশের সীমান্ত রক্ষায় নয়, বরং কূটনৈতিক প্রভাব, বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা এবং কৌশলগত প্রস্তুতির কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামরিক শক্তির সংজ্ঞা ও পরিমাপকেও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালে এসে বিশ্বের সামরিক শক্তির মানচিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোন দেশগুলো বৈশ্বিক নিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখছে, কারা দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে এবং কারা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে-তা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষণ সূচকগুলোর মূল্যায়নে। এই প্রতিবেদনে সামরিক শক্তির ভিত্তিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর অবস্থান, সক্ষমতা ও কৌশলগত গুরুত্ব দেশভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তি

২০২৬ সালেও সামরিক শক্তির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট, উন্নত প্রযুক্তি এবং বিশ্বব্যাপী সামরিক উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র একাই বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে থাকে।

উন্নত যুদ্ধবিমান, স্টেলথ প্রযুক্তি, বিমানবাহী রণতরি, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক আধিপত্যের শীর্ষে রেখেছে। এর পাশাপাশি ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সামরিক ঘাঁটি এবং শক্তিশালী জোট ব্যবস্থা দেশটির বৈশ্বিক প্রভাব আরও সুসংহত করেছে।

রাশিয়া: স্থলবাহিনী ও পারমাণবিক শক্তিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী

রাশিয়া ২০২৬ সালে সামরিক শক্তির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটির প্রধান শক্তি হলো বিশাল স্থলবাহিনী, বৃহত্তম ট্যাঙ্ক বহর এবং শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। দীর্ঘদিনের সামরিক ঐতিহ্য ও কৌশলগত অস্ত্র উন্নয়নে বিনিয়োগ রাশিয়াকে একটি প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত করেছে।

যদিও রাশিয়ার অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায় ছোট, তবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, সাবমেরিন ও আর্টিলারিতে দেশটির সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে রাশিয়া এখনও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

চীন: দ্রুত উত্থানশীল সামরিক শক্তি

চীন ২০২৬ সালে সামরিক শক্তির দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং দেশটির শক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী চীনের দখলে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এনেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ চীনের সামরিক আধুনিকায়নের প্রমাণ। একই সঙ্গে শক্তিশালী উৎপাদন খাত ও বৈশ্বিক অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে চীন সামরিক শক্তির পাশাপাশি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বিস্তার করছে।

ভারত: দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান সামরিক শক্তি

ভারত ২০২৬ সালে সামরিক শক্তির তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা বাজেট, সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি এবং বিশাল জনবল ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে।

ভারতের স্থলবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে দেশীয় উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং পারমাণবিক সক্ষমতার কারণে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া: প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শক্তি

দক্ষিণ কোরিয়া তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দেশটিকে পূর্ব এশিয়ায় একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে পরিণত করেছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী সবসময় উচ্চ প্রস্তুতিতে থাকে।

ফ্রান্স: ইউরোপের কৌশলগত শক্তি

ফ্রান্স ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। দেশটির রয়েছে স্বাধীন পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা, আধুনিক বিমানবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সামরিক মিশনে সক্রিয় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতি বৈশ্বিক প্রভাবকে আরও দৃঢ় করেছে।

জাপান: প্রতিরক্ষামুখী কিন্তু প্রযুক্তিতে এগিয়ে

জাপান সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। সংবিধানগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও দেশটি উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক নৌবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা রক্ষায় জাপানের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে।

যুক্তরাজ্য: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়

যুক্তরাজ্য অষ্টম স্থানে রয়েছে। আধুনিক নৌবাহিনী, বিমানবাহী রণতরি এবং পারমাণবিক সাবমেরিন যুক্তরাজ্যের সামরিক শক্তির প্রধান ভিত্তি। ন্যাটো জোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে দেশটির বৈশ্বিক সামরিক প্রভাব এখনও উল্লেখযোগ্য।

তুরস্ক: আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে উত্থান

তুরস্ক নবম স্থানে রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সংযোগস্থলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটির সামরিক গুরুত্ব বাড়ছে। দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন ও ড্রোন প্রযুক্তিতে অগ্রগতি তুরস্ককে একটি উদীয়মান আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছে।

ইতালি: ন্যাটো জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য

ইতালি দশম স্থানে রয়েছে। আধুনিক নৌ ও বিমানবাহিনী এবং ন্যাটো জোটে সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে দৃঢ় করেছে। ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতালির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভবিষ্যতে সামরিক শক্তির এই র‌্যাঙ্কিং আরও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনই বৈশ্বিক সামরিক শক্তির মূল কেন্দ্র হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।