ঢাকাশনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

শ্রমিক কোটা প্রতারণা: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৯ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ । ৩২ জন

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক কোটার অপব্যবহার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা ‘বাদুল’সহ নয়জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটককৃতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি পুরুষ এবং একজন ইন্দোনেশীয় নারী রয়েছেন।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুরের জালান দেশা পানদান এলাকার একটি দোকানঘরের দ্বিতীয় তলায় এনফোর্সমেন্ট বিভাগের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২৬ থেকে ৬১ বছর বয়সী মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি, তদন্তে সহায়তার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুইজন স্থানীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি নিজেদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত বিদেশি শ্রমিক কোটাকে অবৈধভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি, হস্তান্তর ও সরবরাহ করছিল। এসব কার্যক্রমের জন্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়নি। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত ফি আদায় করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, এই অবৈধ কার্যক্রম থেকে সিন্ডিকেটটি বছরে প্রায় ১০ লাখ রিঙ্গিত পর্যন্ত লাভ করত।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটি বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ভুয়া ছুটির চিঠি প্রস্তুত করত। অভিযানে ধরা পড়লে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শ্রমিকদের মুক্তির ব্যবস্থাও করত তারা। একই সঙ্গে কোনো অনুমোদন ছাড়াই পাস ও ভিসা নবায়নের মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করছিল এই চক্র।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, সিন্ডিকেটটি পেনিনসুলার মালয়েশিয়াজুড়ে অনুমোদনহীনভাবে বিদেশি শ্রমিক সরবরাহে সক্রিয় ছিল। এটি দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার একটি পরিকল্পিত অপব্যবহার, যা একদিকে বিদেশি শ্রমিকদের শোষণ করছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

অভিযানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ২২টি, বাংলাদেশের ২০টি, পাকিস্তানের ৫টি এবং ভারতের ১টি পাসপোর্ট। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ৪৯৭টি বিদেশি শ্রমিকের আই-কার্ড, ৩৮টি সিআইডিবি কার্ড, ১৩ হাজার রিঙ্গিত নগদ অর্থ এবং অবৈধ প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথি ও সরঞ্জাম।

আটক সব বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের আশ্রয় দেওয়া, নিয়োগ করা বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আপস ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশজুড়ে আইন প্রয়োগমূলক অভিযান আরও জোরদার করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।