ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় চালু জাপানের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ণ । ১২৮ জন

জাপান দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালু করেছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর দেশের রাজধানী টোকিওর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।

টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ রড বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় সরিয়ে ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টর চালু করা হবে। আগামী মাসে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা পুনরায় চালুর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কয়েকটি নাগরিক সংগঠন ৪০ হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে পিটিশন জমা দিয়েছে। পিটিশনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি ভূমিকম্প-সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত এবং পুনরায় চালু করা অযৌক্তিক।

জাপান বিগত কয়েক দশকে জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটলে দেশটির ৫৪টি রিঅ্যাক্টর বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফুকুশিমা বিপর্যয়টি ১৯৮৬ সালের চেরনোবিলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক বিপর্যয় হিসেবে পরিচিত।

ফুকুশিমার দুর্ঘটনায় রিখটার স্কেলে ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প ও তৎপরবর্তী সুনামি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুরক্ষাপ্রাচীর ভেঙে জরুরি ডিজেল জেনারেটরগুলো বিকল করে দেয়। এর ফলে চুল্লিগুলোর শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যর্থ হয় এবং তিনটি চুল্লির জ্বালানি গলে গিয়ে হাইড্রোজেন বিস্ফোরণ ঘটে। পরিবেশে প্রচুর পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে তাড়াহুড়ো করে সরানো হয়।

ফুকুশিমা দুর্ঘটনার সরাসরি প্রভাবে তৎক্ষণাৎ কেউ মারা না গেলেও, দীর্ঘমেয়াদী ক্যান্সার ঝুঁকি এবং উচ্ছেদজনিত মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

২০১১ সালের দুর্ঘটনার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩৩টি সচলযোগ্য চুল্লির মধ্যে ১৪টি রিঅ্যাক্টর পশ্চিম ও দক্ষিণ জাপানে পুনরায় চালু হয়েছে। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রের পুনরায় চালু হওয়া জাপানের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা