ঢাকামঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি হচ্ছে পানির দামে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ । ১৩৬ জন

রংপুর অঞ্চলে আলু বিক্রি হচ্ছে পানির চেয়ে কম দামে। হিমাগারে রাখা পুরানো আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিতে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায়, আর আগাম আলুও বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকায়। ফলে কৃষক ও হিমাগার মালিকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন।

গত মৌসুমে আলু চাষে বড় ধরনের লোকসানের পর এবার আগাম আলু চাষে আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষিরা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে। চাষিরা জানান, জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার খরচ হয়েছে, কিন্তু এত টাকা উঠছে না। ব্যবসায়ীরা সরাসরি জমিতে আসে না, কৃষকরা নিজে আলু তুলে আনে, তবু পছন্দ মতো দাম পাচ্ছেন না। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেটসহ অন্যান্য এলাকার চাহিদা কম থাকার কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই।

গত মৌসুমে বিভাগের ১১৬টি হিমাগারে ১১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ডিসেম্বর মাসে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন আলু হিমাগারে অবশিষ্ট ছিল। হিমাগার মালিকরা কৃষকরা আলু বের না করায় বাধ্য হয়ে কেজিতে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি করছেন।

রংপুরের গোল্ডেন হিমাগার লিমিটেডের ম্যানেজার বায়েজিদুর রহমান জুয়েল বলেন, “২ থেকে ৩ বা সাড়ে ৩ টাকায় আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে হিমাগার মালিকদের মতো কৃষক ও গ্রাহকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”

কৃষি বিপণন অধিদফতরের সহকারী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ বলেন, “বাজারে প্রচুর পরিমাণ পুরানো আলু রয়েছে, সঙ্গে নতুন আলু যোগ হওয়ার কারণে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।”

চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন।