ঢাকারবিবার , ৪ জানুয়ারি ২০২৬

আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজনৈতিক টানাপোড়েনে খাদ্য পরিস্থিতি প্রভাবিত হবে না: খাদ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৪, ২০২৬ ৩:৩১ অপরাহ্ণ । ১২৭ জন

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেশের খাদ্য পরিস্থিতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, দেশে খাদ্যের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই এবং দুই দেশের মধ্যে খাদ্যপণ্য আমদানি–রপ্তানি স্বাভাবিকভাবেই চলমান রয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের খাদ্য মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন খাদ্য উপদেষ্টা। এ সময় খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানিকে বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করে না, বরং বাজার ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দেখে। তিনি বলেন, “আমরা যেখান থেকে কম দামে পাওয়া যায় সেখান থেকেই কিনি। এটি পুরোপুরি ক্রেতা-বিক্রেতার বাজারভিত্তিক বিষয়। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।”

গম আমদানি প্রসঙ্গে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন গমের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১০ লাখ মেট্রিক টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি অংশ পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। অন্যদিকে চালের সিংহভাগ দেশীয় উৎপাদন থেকে আসে এবং সীমিত পরিমাণ আমদানি করা হয়। বর্তমানে কিছু আমদানি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও ধাপে ধাপে অতিরিক্ত আমদানির প্রয়োজন কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

খাদ্য উপদেষ্টা জানান, গত বছর সরকার পরিবর্তন ও একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছিল। তবে চলতি বছরে খাদ্যশস্যের মজুত গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় চালের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সরকারি খাদ্য গুদামে মোট ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চাল রয়েছে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ টন, গম ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ টন এবং ধান ৯ লাখ ৭ হাজার ৪০৯ টন। সরকারের সর্বোচ্চ ২৪ লাখ টন পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুদ বৃদ্ধির সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আসন্ন বোরো মৌসুমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে উল্লেখ করে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, চলতি আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহের হার সন্তোষজনক ছিল। সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান খাদ্য মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিরাপদ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।