
বিশ্বে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো গেলে স্ট্রোকের ৯০ শতাংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
রোববার (২ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। এর আগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “মানুষের মধ্যে স্ট্রোক নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেকেই বুঝতে পারেন না, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন কিনা। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা দিলে রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে স্ট্রোক চিকিৎসা এখনো ঢাকা কেন্দ্রিক। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “স্ট্রোক মূলত রক্তনালীর অসুখ। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, অনিয়মিত ঘুম ও মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-দেরি করলে জটিলতা বাড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “স্ট্রোক চিকিৎসায় ওষুধে কোনো ভর্তুকি নেই, রোগীদেরই ব্যয় বহন করতে হয়। সরকার যদি কিছু ভর্তুকি দেয়, তাহলে অনেক মানুষের উপকার হবে।”
অধ্যাপক ডা. ফজলে এলাহী মিলাদ বলেন, “গ্রামীণ জনমনে এখনো ভুল ধারণা রয়েছে-অনেকে মনে করেন হার্টে স্ট্রোক হয়। আসলে স্ট্রোক হয় মস্তিষ্কে, এটি হার্টের রোগ নয়।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “ওষুধ বন্ধ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এম জামাল, নিউরোসার্জারি বিভাগের ডা. আ ফ ম মমতাজুল হক, ডা. আশিক এহসান, ডা. মোতাসিম বিল্লাহ, ডা. ইসরাত জাহান রিফাত, ডা. মশিউর রহমান মজুমদার, ডা. সাহিদুর রহমান শিকদার ও ডা. সুজন শরীফ প্রমুখ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি মানুষ স্ট্রোকের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে ভুগছেন।