ঢাকারবিবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

কারেন্ট জাল ও ট্রল ডোর ব্যবহারে কঠোর হচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫ ৪:২৪ অপরাহ্ণ । ২০০ জন

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সমুদ্র ও উপকূলে অতিআহরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিবদ্ধ পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, কারেন্ট জাল, ট্রল ডোর এবং সোনার সিস্টেমের মাধ্যমে অতিরিক্ত মাছ আহরণ দেশের মূল্যবান মৎস্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ফেলছে। এ অবস্থা রোধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর অডিটোরিয়ামে “বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি (২০২৪-২৫) পর্যালোচনা এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৫-২৬)” শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, একসময় দেশের ৬০ শতাংশ মাছ মুক্ত জলাশয়ে পাওয়া যেত এবং ৪০ শতাংশ মাছ চাষ করা হতো। বর্তমানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে-৪০ শতাংশ মাছ মুক্ত জলাশয়ে এবং ৬০ শতাংশ মাছ চাষে উৎপাদিত হচ্ছে। পানি দূষণ, ভরাট এবং অনিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই অর্জন ধরে রাখতে হলে ইলিশ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি হালদা নদীর রুই ও কাতলা দেশের অন্য কোথাও মেলে না। এ কারণে হালদার মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে গবেষণা জোরদার করতে হবে।

কর্মশালায় বিএফআরআই মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র সভাপতিত্ব করেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদে টেকসই যোগান নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীদের অবদান অপরিসীম। তবে তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ফারাহ্ শাম্মী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. রফিকুল ইসলাম সরদার এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুর রউফ।

এসময় বিএফআরআই-এর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতির ওপর একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন, যেখানে সাম্প্রতিক গবেষণার সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের করণীয় তুলে ধরা হয়।