
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাস্তবায়নের জন্য টিকা কেনায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইউনিসেফের মাধ্যমে গাভি (গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন) থেকে এসব টিকা সংগ্রহ করা হবে।
রবিবার রাজধানীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির ৩০তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
ইপিআই হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিচালিত বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচি, যার লক্ষ্য পৃথিবীর সব শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা। বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল থেকে এ কর্মসূচি চালু হয়। শুরুতে যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, হাম, পোলিওমাইলাইটিস এবং মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকারের বিরুদ্ধে টিকা দেওয়া হতো।
পরবর্তীতে ২০০৩ সালে হেপাটাইটিস, ২০০৯ সালে হিমোফাইলাস, ২০১৫ সালে নিউমোনিয়ার টিকা যুক্ত হয় ইপিআই কর্মসূচিতে।
বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুহার কমাতে এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ১৯৭৪ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি চালু করে। ১৯৮৪ সালে এ কর্মসূচির কর্মপরিকল্পনা প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে গরিব দেশগুলোতে টিকা সরবরাহ জোরদার করতে গঠিত হয় গাভি।
ইপিআই কর্মসূচির ফলে ২০০৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পোলিও নির্মূল হয় এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। একইসঙ্গে ১৯৯৯ সালের মধ্যে হামজনিত মৃত্যু অর্ধেকে নেমে আসে। ২০১০ সালের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ৯০ শতাংশ শিশু টিকাদানের আওতায় আসে।