
অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৬ প্রো (১২৮ জিবি) বিশ্বব্যাপী বাজারে আসার পর থেকেই দেশভেদে দামের ব্যাপক বৈষম্য চোখে পড়ছে। সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে দামীভাবে বিক্রি হচ্ছে তুরস্কে, যেখানে ফোনটির দাম ২,১৮২ মার্কিন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের দামের তুলনায় ১০২% বেশি। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দাম দক্ষিণ কোরিয়ায়, সেখানে আইফোন ১৬ প্রো পাওয়া যাচ্ছে ১,০৬৩ মার্কিন ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ১% কম।
তুরস্কের পর তালিকায় আছে ব্রাজিল, মিশর, সুইডেন ও ভারত। ব্রাজিলে আইফোন ১৬ প্রো কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ১,৮৩৫ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ৭০% বেশি। মিশরে দাম ১,৫২৫ ডলার, সুইডেনে ১,৪৪৮ ডলার এবং ভারতে ১,৪০১ ডলার।
ইউরোপের বেশিরভাগ দেশেই ফোনটির দাম যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও স্পেনে দাম ২৫%-২৪% বেশি।
মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে দামের ব্যবধান তুলনামূলক কম। উদাহরণস্বরূপ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) দাম ১,১৭০ ডলার, সিঙ্গাপুরে ১,১৯২ ডলার, আর থাইল্যান্ডে ১,১৬০ ডলার।
অস্ট্রেলিয়ায় দাম যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সমান-১,০৮২ ডলার। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে সবচেয়ে কম দামে-১,০৬৩ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৬ প্রো (১২৮ জিবি) এর মূল দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,০৭৯ ডলার। এখান থেকে অন্যান্য দেশের দাম তুলনা করা হলে বৈষম্যটা স্পষ্ট হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর কাঠামো, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এবং মুদ্রার বিনিময় হার-এসব কারণে দেশভেদে দামের এ পার্থক্য তৈরি হয়। যেমন, তুরস্কে উচ্চ কর ও মুদ্রাস্ফীতি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাজারে কম শুল্ক ও প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির কারণে দাম যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও কম রাখা সম্ভব হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ডয়চে ব্যাংক, Voronoi/Visual Capitalist