
নতুন iPhone 17 Pro (256 GB) বাজারে আসার পর থেকেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এর মূল্য। তবে এর সাশ্রয়ের বিষয়টি দেশভেদে অনেকটাই ভিন্ন। ‘আইফোন সাশ্রয়ী মূল্য সূচক’ অনুযায়ী, ৮ ঘণ্টার শিফটের ভিত্তিতে ৩৩টি দেশের একজন গড় কর্মীকে ফোনটি কিনতে কত পূর্ণ কর্মদিবস কাজ করতে হবে তার একটি চিত্র পাওয়া গেছে।
তথ্য বলছে, সবচেয়ে কম দিনে আইফোন কেনা সম্ভব লাক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডে। ঐ দুই দেশে মাত্র ৩ কর্মদিবসেই ফোনটি কেনা সম্ভব। এর পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে, যেখানে গড়ে ৪ কর্মদিবস কাজ করলেই আইফোন কিনতে পারবেন যে কোন কর্মী। অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি ও কানাডার মানুষের জন্য সময় কিছুটা বেশি, যেখানে প্রায় ৫ কর্মদিবস কাজ করলেই কর্মীরা আইফোন কিনতে পারবেন।
অন্যদিকে, ফ্রান্স ও সুইডেনে এই সময় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দিন, যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডে ৭ দিন, আর সিঙ্গাপুর, ইতালি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইফোন কিনতে প্রয়োজন হয় গড়ে ৮ দিন। তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে স্পেন (৯ দিন) ও চেকিয়ায় (১২ দিন)।
অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা দেশগুলোতে এ ব্যবধান আরও প্রকট। যেমন, পোল্যান্ডের কোন কর্মী যদি আইফোন কিনতে চায়, তাহলে ঐ কর্মীকে কাজ করতে হবে ১৭ দিন, পর্তুগালে ২৪ দিন, হাঙ্গেরিতে ২৭ দিন এবং চিলিতে ৩২ দিন। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে সময় আরও বেশি- ক্রমশ ৪৫ ও ৬১ দিন।
সবচেয়ে চরম পরিস্থিতি দেখা যায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। ব্রাজিলে আইফোন কিনতে একজন কর্মীর লাগে ৭৭ দিন, তুরস্কে ৮৯ দিন, ভিয়েতনামে ৯৯ দিন, ফিলিপাইনে ১০১ দিন, আর ভারতে একজন গড় কর্মীকে প্রায় ১৬০ কর্মদিবস কাজ করতে হয় একটি আইফোন কেনার জন্য।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যানটি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে আইফোন কেনা তুলনামূলক সহজ হলেও উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে তা এখনও অনেকটাই বিলাসদ্রব্যের পর্যায়ে রয়ে গেছে। ফলে একটি স্মার্টফোন কিনতে একজন কর্মীর কতটা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে, সেটিই প্রতিফলিত করছে দেশের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনমান।