মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আটক করে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে লাইফজ্যাকেট দিয়ে তাদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
তথ্য বলছে, মিয়ানমারে বর্তমানে সেনা অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ ও জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিরোধ অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গারা বহু বছর ধরে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাদের অনেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
নুরুল আমিন নামের এক যুবক তার ভাই খাইরুলসহ চারজনকে ২০২৩ সালের মে মাসে ভারত থেকে জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর খবর জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে যেখানে প্রতিদিন যুদ্ধ চলছে, সেখানে তাদের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তায়।
প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানান, দিল্লির বিভিন্ন থানায় ডেকে পাঠানোর পর তাদের আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর হিন্দন বিমানবন্দর থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাসে করে নৌবাহিনীর জাহাজে আনা হয়। বাসে লেখা ছিল— “ভারতীয় নৌবাহিনী।”
জাহাজে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তাদের আটকে রাখা হয়। এসময় মারধর ও অপমানের শিকার হন তারা। কারও হাত বেঁধে, কারও মুখ ঢাকা অবস্থায় রাখা হয়। কয়েকজনকে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। পরবর্তীতে ছোট রাবারের নৌকায় তুলে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন, কিন্তু বাস্তবে তারা মিয়ানমারে গিয়ে পৌঁছান। স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে প্রতিরোধ গোষ্ঠী বাহটু আর্মি আশ্রয় দেয়।
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ ঘটনাটিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ রোহিঙ্গাদের জীবনকে “চরম ঝুঁকির মুখে” ঠেলে দিয়েছে। ভারতীয় মিশনের কাছে তিনি প্রমাণ জমা দিলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি।
ভারতে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি নেই; তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। নুরুল আমিন বলেন, “ভারত সরকার যে কোনো সময় আমাদেরও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেবে।”
এ বিষয়ে রোহিঙ্গারা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নির্বাসন বন্ধের আবেদন করেছেন। তবে শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি অভিযোগগুলোকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে মন্তব্য করেন। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর।
সূত্র: বিবিসি নিউজ


