ঢাকাশুক্রবার , ৭ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

নতুন করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, নেই নতুন ভ্যারিয়েন্টের টিকা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৯ জুন ২০২৫, ১০:১৫ সকাল

Link Copied!

দেশে আবারও বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা গত আড়াই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো—নতুনভাবে শনাক্ত হওয়া ওমিক্রনের সাব ভ্যারিয়েন্ট XFG এবং XFC-এর বিরুদ্ধে এখনও দেশে কোনো নতুন টিকা মজুদ নেই।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও শনাক্ত ভ্যারিয়েন্ট
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, মে মাসে ১,৪০৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৩৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৯.৫১ শতাংশ। কোভিড পজিটিভ স্যাম্পল সিকুয়েন্স করে দেখা গেছে, এই সংক্রমণ মূলত ওমিক্রনের নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট XFG এবং XFC দ্বারা হচ্ছে, যেগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

টিকা সংকট ও কমে আসা আগ্রহ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশিদ জানান, বর্তমানে দেশে পূর্বে সংগৃহীত প্রায় ৩২ লাখ টিকা রয়েছে, যেগুলোর মেয়াদ আরও কয়েক মাস। এগুলো ওমিক্রনের সাধারণ ভ্যারিয়েন্টে কার্যকর হলেও নতুন সাব ভ্যারিয়েন্টের জন্য আলাদা টিকা এখনো আনা হয়নি। টিকা কমিটিও গঠন করা হয়নি।

টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “গুজবের কারণে মানুষ টিকা নিতে চাচ্ছে না, অথচ নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে গেলে এখনও টিকা নেয়া সম্ভব।” চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে মাত্র ৪৩ জন টিকা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ ৭, দ্বিতীয় ডোজ ৫, বুস্টার ডোজ ১৬ এবং চতুর্থ ডোজ ১৫ জন নিয়েছেন।

কে টিকা নেবে, কার প্রয়োজন নেই?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সবাইকে আতঙ্কিত হয়ে টিকা নেওয়ার দরকার নেই। আপাতত যারা সম্মুখসারির পেশায় যুক্ত, ষাটোর্ধ্ব, কোমর্বিডিটিযুক্ত বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম—তাদের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা আগে কোনো ডোজ নেননি, তারা এখন টিকা নিতে পারবেন।

চিকিৎসা ও প্রস্তুতি কার্যক্রম
সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে মহাখালী কোভিড হাসপাতালে রোগী ভর্তি বাড়ছে, ল্যাবে পরীক্ষা বেড়েছে। হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে শনাক্তকরণ কিট, প্রস্তুত রাখা হয়েছে শয্যা। এখন পর্যন্ত জানুয়ারি থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সাতজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন—সব মৃত্যুই জুন মাসে।

আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতি জরুরি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদা ইয়াসমিন বলেন, “সংক্রমণ বাড়লেও এখনো আতঙ্কিত হওয়ার মতো অবস্থা হয়নি। তবে ধীরগতিতে ছড়ালেও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেভাগে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে মৃত্যুহার ও সংক্রমণ উভয়ই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

মোট পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের। মোট শনাক্তের হার ১৩.০৫ শতাংশ, সুস্থতার হার ৯৮.৪২ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১.৪৪ শতাংশ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

Xiaomi Launches REDMI 17: Bigger Battery & Stronger Protection

৭,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে বাজারে এলো শাওমির রেডমি ১৭

ডিএনসিসির উদ্যোগে তামাক বিক্রি ও প্রচারণার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান

ভারতে বন্যা-ভূমিধসে শতাধিক প্রাণহানি

সন্ধ্যার মধ্যে ৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ, এর এক-তৃতীয়াংশ মোটরসাইকেল আরোহী

অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় পাওয়ার টিলারচালক নিহত

আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া

জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বজুড়ে বাসস্থান বদলাচ্ছে প্রজাপতি

বৃষ্টি কমছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে-জলবায়ু সংকটে চাপে ইউরোপের কৃষকেরা

তীব্র তাপপ্রবাহে ইতালির ২৭ শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

চরম গরমে ভুগছে যুক্তরাজ্য, বাড়ছে সরকারি সেবার সংকট