ঢাকামঙ্গলবার , ২৩ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

সোনালী ধানে জুমিয়াদের মুখে হাসি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৮ অক্টোবর ২০২৪, ১১:০৪ সকাল

Link Copied!

খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবন তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ে এবার জুমে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এবার খাগড়াছড়ির জুমে ভালো ফলন হযেছে। জুমে এখন চলছে ধান কাটার উৎসব। ধান ছাড়াও বাহারি সবজির চাষ হযেছে জুমে। পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ে পাকা সোনালী ধান জুমিয়াদের এনে দিয়েছে পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য। ঘরে ঘরে এখন খুশির বন্যা।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান তিন পার্বত্য জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৯ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে ৪০ হাজার জুমিয়া পরিবার জুম চাষ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুমের আবাদ হয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলায়। বান্দরবানে ২৮ হাজার পরিবার প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে জুমের আবাদ করেছে। রাঙ্গামাটিতে ৫ হাজার পরিবার সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে এবং খাগড়াছড়িতে ৬ হাজার ৬৮২ পরিবার ১১ হাজার ১২৪ হেক্টর জমিতে আবাদ করেছে।

পার্বত্য অঞ্চলে লাঙ্গলে চাষাবাদ জমির পরিমাণ খুবই কম। ফলে উপজাতিরা জীবনধারণে পাহাড়ে আদিযুগের প্রথানুযায়ী জুম চাষের ফসল উৎপাদন করে থাকে। সাধারণত পৌষ-মাঘ মাসে মালিকানাধীন কিংবা পরিত্যক্ত ঘন বন-জঙ্গল, পাহাড় নির্বাচন করে জঙ্গল কাটা শুরু হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাস পর্যন্ত প্রখর রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়ে ছাই করা হয়। নেড়া পাহাড়ে বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে প্রথম বীজ ধান বপন ও পরবর্তীতে বিভিন্ন তরিতরকারি বীজ বপণসহ নানা প্রকার ঔষধি, সবজি রোপণ করা হয়।

বর্তমানে জুম চাষের উৎপাদিত ফসলের মধ্যে রয়েছে- মারপা (শশা জাতীয়) বরবটি, শীম, বেগুন, চিকন মরিচ, ধনিয়া, কুমড়া, ধেড়স, বাতিমা, কচু, আদামরিচ, তিল ভুট্টাসহ ৪০ প্রকারের নানা প্রকার বর্ষাকালীন সবজি। এ সমস্ত সবজি পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিটি হাটবাজারে প্রচুর পরিমাণে এখন পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি হাটের দিনে বিভিন্ন জেলার কাঁচামালের ব্যবসায়ীরা পাইকারী হারে তা ক্রয় করে ট্রাক ভর্তি করে চালান করছে সমতলের বিভিন্ন অঞ্চলে। জুম তরকারির মধ্যে জুম মিষ্টি কুমড়া ও সাদা কুমড়া সুস্বাদু বলে সব এলাকায় প্রিয়।

জুম উৎপাদিত তরিতরকারি তুলনামূলকভাবে অন্যান্য তরকারির চেয়ে কম মূল্য এবং ক্রেতার সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। এবার এ দেশের অন্যান্য জেলায় তরিতরকারির দাম বেশি হওয়ায় জুম চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বেশ ভালো দামে বিক্রি করতে পারছে। অন্যান্য বছর যেখানে জুম চাষিরা প্রতি কেজি মারফা (শশা জাতীয়) ফল ২০ টাকা ২৫ টাকা দামে বিক্রি করতেন। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দামে। তরিতরকারি ন্যায্য মূল্য পেয়ে চাষিরা আনন্দিত।

জুম চাষি খগেন্দ্র ও হরি ত্রিপুরা জানান, এবার প্রথম থেকে আবহাওয়া ছিল অনুকুলে। চৈত্র বৈশাখ মাসে জুমের গুল্ম লতা পুড়ে ফেলার জন্য ছিল প্রখর রোদ। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ধানসহ বিভিন্ন ফলের চারা গজিয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত বৃষ্টি ছিল। ব্যাপক হারে ভূমি ধ্বংসের আশঙ্কা থাকলেও ভূমি ধস কম হওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছে। ফলে এবার জুমে বাম্পার ফলন হয়েছে। খাগড়াছড়ি শহরের আলুটিলা, দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে জুমে উৎপাদিত পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে।

জুম চাষ পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদ পদ্ধতি বলে চাষিদের আবাদ থেকে ফিরিয়ে রাখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জুমিয়াদের পুনর্বাসন করার পরও জুম চাষ বন্ধ করা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে জুমে নতুন জাতের ধান বপন ও পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আউশ মৌসুমের বিরি-২৪, বিরি- ২৬, বিরি- ২৭ সহ গবেষণায় পরীক্ষাধীন দুটি জাতের ধান জুমে পরীক্ষামূলকভাবে খাগড়াছড়িতে আবাদ করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বাছিরুল আলম জানান, প্রদর্শনী প্লটেও জুমের আবাদ ভালো হয়েছে। চারটি জাতের মধ্যে বিরি- ২৪ ও বিরি- ২৭ এর ফলন সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে তিনি জানান।
জুম চাষের ওপর নেতিবাচক ধারনা থাকলেও পার্বত্য অঞ্চলের বড় ছোট প্রায় ১৪ টি বিভিন্ন ভাষাভাষীর পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সাধারণত এ জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে যুগ যুগ ধরে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ও আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য গৌতম কুমার চাকমার ১৯৮৮ সালে লেখা এক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ১ লাখ পরিবার জুম চাষ করে।

অপরদিকে ২০০১ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ৫টি প্রধান জনগোষ্ঠীর মধ্যে মুরং ৮৪.০৪ ত্রিপুরা ৫৪.০৮, মারমা ৪২.৩, চাক্মা ২২.০৭, এবং ১.০৬ শতাংশ বাঙালি জুম চাষ করেন। চাকমা ভাষা ঝুম, ত্রিপুরা ভাষায় ছুগ এবং মারমা ভাষায় ইয়া নামে পাহাড়ে জুম চাষ হয়ে থাকে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত

২ হাজার ৪৬০ কেন্দ্রে চলবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন, লক্ষ্য ৩.৫৭ লাখ শিশু

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় ১০ লাখ প্রতিষ্ঠান

জয়পুরহাটে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের আশঙ্কা

এবার ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচ ও ই-সিগারেট আমদানিতে সম্পূর্ণ কর প্রত্যাহারের আবদার বিএটির!

সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা

বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় নবম ঢাকা

টেকনাফে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে প্রশাসনের আহ্বান

দেশের ১৫ জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে ভ্যাপসা গরম

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬৮৩