ঢাকাসোমবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

৩ মার্চ আকাশে উঠবে ‘রক্ত চাঁদ’—বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ । ৪৯ জন

সাম্প্রতিক সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশ থেকে দেখা যায়নি। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে আসছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। আগামী ৩ মার্চ স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বাংলাদেশের আকাশে দেখা মিলবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘রক্ত চাঁদ’-এর।

কীভাবে হয় চন্দ্রগ্রহণ?

চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই; সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয় বলেই আমরা তাকে দেখি। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়লে সৃষ্টি হয় চন্দ্রগ্রহণ।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায় না; বরং গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করে। এ কারণেই একে ‘রক্ত চাঁদ’ বা ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সূর্যালোক প্রবেশের সময় নীল অংশ বেশি ছড়িয়ে যায়, আর লাল অংশ অপেক্ষাকৃত কম বিচ্ছুরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে—ফলেই চাঁদ লালচে দেখায়।

খালি চোখেই দেখা যাবে

সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ চশমা বা যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। রাতের আকাশে খালি চোখেই উপভোগ করা যায় এই মহাজাগতিক দৃশ্য। পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হবে, যার মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় পূর্ণগ্রাস পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।

বাংলাদেশে কখন দেখা যাবে?

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী—

পূর্ণগ্রাস শুরু: বিকেল ৫টা ২৮ মিনিট

পূর্ণগ্রাস শেষ: সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিট

খণ্ডগ্রাস শেষ: রাত ৮টা ২৩ মিনিট

অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আকাশে লালচে চাঁদ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা।

ভারতে সময়সূচি

ভারতে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটে (ভারতীয় সময়) এবং শেষ হবে বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে। খণ্ডগ্রাস পর্যায় চলবে রাত ৭টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত।

বিশ্বের কোথায় দেখা যাবে?

পৃথিবীর যেসব অংশে তখন রাত থাকবে, সেসব অঞ্চল থেকে গ্রহণটি দেখা যাবে। আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪ মিনিট থেকে ৫টা ২ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস পর্যায় দৃশ্যমান হবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ দৃশ্য হবে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই উপভোগ করা যাবে বিরল এই ‘রক্ত চাঁদ’।