
শিশুর বয়স ৫ পেরিয়ে ৬ এর কাছাকাছি গেলেই মায়ের মনে নতুন টেনশন, কী খাওয়াবো, ক’বার খাওয়াবো, কখন খাওয়াবো ইত্যাদি। শিশুর বয়স ছয় মাস শেষ হলেও অন্য কোন দুধ যোগ করা যাবে না, শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধই শিশুর জন্য বরাদ্দ। মনে হবে শিশুর পেট ভরছে না, অন্য কোন দুধ দেই। কিন্তু কক্ষনো অন্য দুধ নয়, এমনকি বিদেশ থেকে এনে দিলেও নয়। তাকে এ সময় থেকে অন্য খাবার দেয়া শুরু করতে হবে যা বাড়িতে তৈরি করা, বাজার থেকে কেনা নয়। তবে ৬ মাস যেদিন শেষ হবে তার পরেরদিন থেকেই যে দিতে হবে তাও না। অনেকে ক্যালেন্ডার দেখে দিনক্ষণ ঠিক করে রাখেন, যেই ৬ মাস শেষ হলো; ব্যস অমনি খিচুড়ি দেয়া শুরু।
বিষয়টা ধীরে ধীরে, কোন তাড়াহুড়ো নয়। মনে রাখতে হবে, শুরু করার এই অন্য খাবার শুধু বাচ্চার সাথে পরিচিত করানোর জন্য, পেট ভরার জন্য নয়। তাই শুরুটা একটু ফলের রস, পাকা কলা, আলু সেদ্ধ, পাকা পেঁপে, ডাল, আমের সময় আম ইত্যাদি চেক এন্ড ব্যালান্স করে এগুতে হবে। তারপর অল্প অল্প ভাত, আলু, ডাল সবজি মাছ ইত্যাদি দিয়ে খেতে দিতে হবে, বেশি না জবরদস্তি না। শিশু এভাবে নতুন এসব খাবারে মোটামুটি অভ্যস্ত হলে খাবারের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে এবং ১ বছরে মোটামুটি বাড়িতে সবার জন্য তৈরি খাবার শিশু খেতে পারবে।
কয়েকটা বিষয় মনে রাখতে হবে
১. খাবারে ঝাল মশলা কম দিতে হবে
২. অল্প অল্প করে খেতে দিবেন, বেশি বেশি খাওয়ানোর চেষ্টা করার দরকার নেই
৩. মোবাইল, কার্টুন, টিভি দেখিয়ে খাওয়ানোর দরকার নেই
৪. যে সব খাবারে আয়রণ ঘাটতি থাকে যেমন সুজি, সেরেলাক, চালের গুড়া, সাবু, বারলি ইত্যাদি দেয়া যাবে না।
৫. এর পরিবর্তে যে সব খাদ্য উপাদানে আয়রনের পরিমাণ বেশি, যেগুলো দেখতে কালচে যেমন, কালচে/লালচে শাক-সবজি, ফলমূল ইত্যাদি খাবার যেমন লালশাক, সিম, বরবটি, ব্রকুলি, মিষ্টি কুমড়া, ডিমের কুসুম, মাছ ও মাছের ডিম, মাংস, কলিজা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার দিলে ভালো হবে।
নোট: শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যপক ডা: মো: আবিদ হোসেন মোল্লার লিখিত ‘শিশু স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি’ বই থেকে নেওয়া হয়েছে তাঁর অনুমতিক্রমে।