লেবুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে লেবুর দাম। পাহাড়ি টিলায় ঘেরা এই অঞ্চল দেশজুড়ে লেবু উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও বর্তমানে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মৌসুমী উৎপাদন হ্রাসের কারণে বাজারে তীব্র মূল্যচাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশব্যাপী।
কয়েক দিন আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে আকারভেদে দাম দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা। বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৫০ টাকায়, মাঝারি আকারের লেবু ৮০-১০০ টাকা এবং ছোট সাইজের লেবু ৬০-৮০ টাকায়। বিক্রেতাদের দাবি, রমজানকে কেন্দ্র করে দাম বাড়েনি; বরং বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে মৌলভীবাজার জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ও শ্রীমঙ্গলের লেবুর আড়ত ঘুরে জানা গেছে, লেবুর প্রধান মৌসুম বর্ষাকাল। সে সময় প্রচুর উৎপাদন হওয়ায় দাম কম থাকে। কিন্তু বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক কারণেই উৎপাদন কমে গেছে। যারা বাগানের বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন, কেবল তাদের গাছেই সীমিত পরিমাণে লেবু পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় বাগান মালিক জুয়েল আহমদ চৌধুরী জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গাছের ফুল ঝরে গেছে এবং স্বাভাবিক ফলনের চার ভাগের এক ভাগও পাওয়া যাচ্ছে না। লেবুচাষি সামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে গাছে লেবু খুব কম, ফলে চাহিদার তুলনায় জোগান অপ্রতুল।
পাইকারি ক্রেতা জহির মিয়া জানান, ২ হাজার পিস লেবু কিনে পরিবহন খরচসহ প্রতিটি লেবুর দাম পড়ছে প্রায় ১৮ টাকা। ব্যবসায়ী রুবেল মিয়ার মতে, রোজার আগেই সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।
এদিকে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, লেবু ছাড়া অনেক খাবার অসম্পূর্ণ লাগে, কিন্তু হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন হিসাব করে কিনতে হচ্ছে। নাজমুল হাসান জানান, শ্রীমঙ্গলের ভালো মানের লেবু এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কঠোর মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হলেও বৃষ্টিপাতের অভাবে ফলন কমেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এখন লেবুর মৌসুম নয়, ফলে চাহিদার তুলনায় জোগান কম। তবে বৃষ্টি শুরু হলে সরবরাহ বাড়বে এবং দামও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।


