ঢাকারবিবার , ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

যাত্রীসেবা ও লাগেজ নিরাপত্তায় বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা চালু করল বিমান বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ ৪:১৮ অপরাহ্ণ । ২৬৪ জন

যাত্রীসেবা ও লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সম্প্রসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় উল্লেখ করে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্বব্যাপী বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশিকালে প্রয়োজনবোধে তালা ভাঙা, চেইন কাটা বা লাগেজের কোনো অংশ কর্তন করা হয়। এসব ক্ষেত্রে যাত্রী বা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন পড়ে না।

তবে বাস্তবতায় দেখা যায়, বিদেশ থেকে আগত অনেক যাত্রী লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কিংবা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে থাকেন। এ ছাড়া কিছু অসাধু চক্র এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের সম্পত্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা এবং দায়ী ব্যক্তি বা স্টেশন শনাক্ত করার লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের লাগেজ ওঠানামা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার কার্যকর করা হয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের ব্যাগেজ সুরক্ষা আরও জোরদার করতে ২০২৪ সালের জুন মাস থেকেই বিমানের নিজস্ব ফ্লাইটের ব্যাগেজ ডেলিভারি কার্যক্রমে কর্মীদের দেহে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়। এ উদ্যোগে ইতিবাচক ফল পাওয়ায় এখন বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা গ্রহণকারী সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনকেও এই ক্যামেরাভিত্তিক নিরাপত্তা সেবার আওতায় আনা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (গ্রাহকসেবা) ও যুগ্মসচিব বদরুল হাসান লিটনের নেতৃত্বে শনিবার এই সম্প্রসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় বদরুল হাসান লিটন বলেন, “আমাদের যাত্রীদের সম্পত্তি ও সেবার গুণগত মান রক্ষায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। এটি যাত্রীদের আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের কর্মীদের পেশাদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।”

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিমানের সার্বিক যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা মানোন্নয়নে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার মান নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে।