
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মুখোশধারী একটি সংঘবদ্ধ দলের হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পাবলিক হেলথ এডভোকেটস অব বাংলাদেশ (পিএইচএবি)।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনটি এ নিন্দা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বিপুলসংখ্যক মুখোশধারী ব্যক্তি কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় সরকারি টিকাদান কার্যক্রমের নথি ও সরঞ্জাম, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, চিকিৎসা ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম, কম্পিউটারসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে কেন্দ্রের স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতিসাধন এবং পরে সেখানে একটি দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পিএইচএবি বলছে, এ ধরনের ঘটনা জনস্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল।
সংগঠনটি আরও জানায়, একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংরক্ষিত সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদান রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য-নথি লুট বা নষ্ট হলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে শিশু ও নারীদের টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য তথ্যের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
পিএইচএবি মনে করে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান দখল, ভাঙচুর বা লুট করতে পারে না। সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারের ওপর আঘাত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে লুট হওয়া সরকারি টিকা, স্বাস্থ্য-নথি, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধারের উদ্যোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল বা অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে পিএইচএবি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাবলিক হেলথ এডভোকেটস অব বাংলাদেশ (পিএইচএবি)-এর পক্ষে বিবৃতিদাতারা হলেন-ইকবাল মাসুদ, সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সুশান্ত সিনহা, আমিনুল ইসলাম সুজন, ফারহানা জামান লিজা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, আমিনুল ইসলাম বকুল, আবু রায়হান, সামিউল হাসান সজীব, সাগুফতা সুলতানা, ইব্রাহিম খলিল ও ফাহমিদা ইসলাম প্রমুখ।