
কৃষিপ্রধান জেলা গাইবান্ধায় ধান চাষই কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকের কারণে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। অভিযোগ উঠেছে, নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের বীজ ও কীটনাশক বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। এতে না বুঝে এসব পণ্য ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শুধু চলতি মৌসুম নয়, টানা কয়েক মৌসুম ধরে একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। বাজার থেকে কেনা কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পোকা দমন না হয়ে উল্টো ফসলের ক্ষতি বাড়ছে।
কৃষকেরা আরও জানান, নকল বীজ ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফলন মিলছে না। বেশি দামে বীজ কিনে মৌসুম শেষে প্রত্যাশিত উৎপাদন না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
গাইবান্ধা সদরের কৃষক আকবর আলী বলেন, রোগ দেখা দিলে ভালো কোম্পানির ওষুধ ব্যবহার করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ভালো ব্র্যান্ডের প্যাকেট ব্যবহার করে ভেতরে ভেজাল ওষুধ ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা প্রতারিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে বল্লমঝড় ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, কৃষকেরা পরিচিত ব্র্যান্ড ও আকর্ষণীয় মোড়ক দেখে বীজ ও কীটনাশক কিনে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তার দাবি, কৃষি বিভাগের যথাযথ তদারকি না থাকায় এই চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. আল মুজাহিদ সরকার জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুমোদিত ডিলার ছাড়া অন্য কোথাও থেকে বীজ ও কীটনাশক না কেনার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।